অনলাইন ডেস্ক | গণ আওয়াজ
বয়সটা তাঁর কাছে কেবলই একটি সংখ্যা মাত্র, এটি তিনি আবারও প্রমাণ করলেন। সবুজ গালিচায় আরও একবার নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জানান দিলেন পর্তুগিজ যুবরাজ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া গোল (Brace) করার পাশাপাশি ফুটবল ইতিহাসের পাতায় এমন এক কীর্তি গড়লেন, যা এর আগে কোনো পুরুষ ফুটবলার কল্পনাও করতে পারেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে উজবেকিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে পর্তুগাল। আর এই জয়ে মূল নায়কের ভূমিকায় ছিলেন দলের ৪১ বছর বয়সী অধিনায়ক রোনালদো। ম্যাচের ৬ষ্ঠ মিনিটেই জোয়াও কানসেলোর ক্রস থেকে এক দারুণ ফিনিশিংয়ে টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি। পরবর্তীতে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি সম্পন্ন করেন।
এই জোড়া গোলের হাত ধরে ফুটবল ইতিহাসে তিনটি অবিশ্বাস্য রেকর্ডের মালিক হলেন সিআরসেভেন (CR7):
১. ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোলের মহাকীর্তি
বিশ্বকাপের মঞ্চে ২০০৬ সালে যে গোলযাত্রার শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসেও তা থামেনি। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, २०२२ এবং ২০২৬) গোল করার অনন্য ও অবিস্মরণীয় বিশ্বরেকর্ড গড়লেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
২. পর্তুগালের সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ স্কোরার
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে এই দুই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে রোনালদোর মোট গোল সংখ্যা এখন ১০টি। এর মাধ্যমে তিনি পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার ইউসেবিও-র ৯ গোলের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপে দেশের পক্ষে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসলেন।
৩. পর্তুগালের সর্বকনিষ্ঠ ও সর্বজ্যেষ্ঠ গোলদাতা
পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে একই সাথে সবচেয়ে কম বয়সী এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতার অনন্য এক রেকর্ড এখন রোনালদোর দখলে। ২০০৬ সালে ইরানের বিপক্ষে যখন তিনি প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেছিলেন, তখন তিনি ছিলেন পর্তুগালের সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলদাতা। আর ২০২৬ সালে এসে ৪১ বছর বয়সে গোল করে তিনি হলেন পর্তুগালের ইতিহাসের সর্বজ্যেষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলস্কোরার।
ম্যাচ শেষে ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, রোনালদোর এই ক্ষুধা এবং পারফরম্যান্স প্রমাণ করে কেন তিনি সর্বকালের অন্যতম সেরা। এই জয়ের মাধ্যমে পর্তুগাল কেবল ৩ পয়েন্টই অর্জন করেনি, বরং পুরো ফুটবল বিশ্বকে জানান দিল এবারের বিশ্বকাপে তারা কতটা ক্ষুধার্ত।
