বাংলাদেশে তীব্র গ্যাস সংকট: কারণ, অব্যবস্থাপনা ও এর সমাধান কি?

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন | গণ আওয়াজ

বাংলাদেশে গ্যাস সংকট আজ আর হঠাৎ নেমে আসা কোনো দুর্যোগ নয়; এটি দীর্ঘদিনের নীতিগত ভুল, অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান বিমুখতা, অপ্রতুল অবকাঠামো এবং অতিমাত্রায় আমদানিনির্ভরতার এক ধারাবাহিক ও অনিবার্য ফল। বিগত কয়েক দশক ধরে প্রাকৃতিক গ্যাসকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, সেই গ্যাসের সুসংহত ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা হয়নি। এর ফলে বর্তমানে গৃহস্থালির রান্নাঘর থেকে শুরু করে কোটি কোটি টাকার রফতানিমুখী পোশাক শিল্প, সার কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো আজ অচলাবস্থায় পড়েছে। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গ্যাস খাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, উত্তোলন ব্যবস্থার বাস্তবতা, প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সংকট কাটিয়ে ওঠার দীর্ঘমেয়াদি পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ভূগর্ভস্থ সম্ভাবনার বাংলাদেশ ও উত্তোলন ব্যবস্থার বাস্তবতা

বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক গঠন প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। ষাটের দশক থেকে শুরু করে বঙ্গ অববাহিকায় একের পর এক বড় বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। সিলেট, তিতাস, হাবiganj, কৈলাশটিলা, রশিদপুর ও বাখরাবাদের মতো ক্ষেত্রগুলো কয়েক দশক ধরে দেশের জ্বালানি চাহিদার প্রায় পুরোটাই জুগিয়েছে। তবে উত্তোলন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবসময় একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও স্বল্পমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করে এসেছে।

দেশের মোট উৎপাদিত গ্যাসের প্রায় সিংহভাগই আসে বাপেক্স, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড এবং বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন কূপগুলো থেকে। এর পাশাপাশি বহুজাতিক কোম্পানি (আইওসি) হিসেবে শেভরন ও তুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশের কয়েকটি বড় ক্ষেত্রে কাজ করছে। ভূতাত্ত্বিক দিক থেকে বাংলাদেশের মূল গ্যাসক্ষেত্রগুলো ‘টারশিয়ারি এজ’-এর বালু পাথরের স্তরে অবস্থিত, যা থেকে খুব দ্রুত ও উচ্চ চাপে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হলেও কূপগুলোর আয়ুষ্কাল তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

উত্তোলন ব্যবস্থার মূল সমস্যা দেখা দেয় যখন নতুন কূপ খনন না করে পুরনো কূপগুলো থেকে অতিরিক্ত প্রেশারে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। কারিগরি ভাষায় একে বলা হয় ‘ওভার ড্রাফটিং’। অনেক ক্ষেত্রে চাহিদার চাপে পড়ে অনুসন্ধান ও রক্ষণাবেক্ষণ না করেই কূপগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে, যার ফলে কূপের পকেটগুলোতে পানি ও বালি ঢুকে উৎপাদনে স্থায়ী ধস নেমেছে। গত এক দশকে পুরনো প্রধান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। অথচ নতুন কূপ অনুসন্ধান করে এই ঘাটতি পূরণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটিকে এক প্রকার স্থবির করে রাখা হয়েছিল।

দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত ভুল সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের গ্যাস খাত আজকের এই শোচনীয় অবস্থায় পৌঁছানোর নেপথ্যে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে চলা প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত অব্যবস্থাপনা।

প্রথমত, দেশীয় অনুসন্ধান সংস্থা ‘বাপেক্স’-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি না করা এবং তাদের কোণঠাসা করে রাখা ছিল সবচেয়ে বড় ভুল। যেখানে প্রতিবেশী ভারত বা মিয়ানমার তাদের সীমানায় বঙ্গোপসাগরে অনুসন্ধান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গ্যাস আবিষ্কার করেছে, সেখানে বাংলাদেশ সমুদ্রসীমা জয়ের পর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অফশোর বা গভীর সমুদ্রে কোনো উল্লেখযোগ্য অনুসন্ধান কার্যক্রমই চলায়নি। বাপেক্সকে পর্যাপ্ত বাজেট, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন রিগ ও দক্ষ জনবল দিয়ে শক্তিশালী করার বদলে প্রতিষ্ঠানটিকে কেবল সাময়িক কিছু মেরামতের কাজেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল।

দ্বিতীয়ত, ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে (অনশোর) নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে চরম মন্থরতা দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের বারবার তাগিদ সত্ত্বেও নতুন ব্লকে ত্রিমাত্রিক (3D) সেসমিক জরিপ চালাতে দীর্ঘ সময় ক্ষেপণ করা হয়। এর ফলে পুরনো ক্ষেত্রের মজুত যখন শেষ হয়ে আসছিল, তখন বিকল্প কোনো নতুন ক্ষেত্র প্রস্তুত ছিল না।

তৃতীয়ত, সিস্টেম লস ও অবৈধ সংযোগ। তিতাসসহ বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির আওতাধীন এলাকায় বছরের পর বছর ধরে লাখ লাখ অবৈধ আবাসিক ও বাণিজ্যিক সংযোগ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে বিতরণ লাইনে যে বিশাল অঙ্কের সিস্টেম লস হতো, তা খাতা-কলমে সমন্বয় করতে গিয়ে মূল হিসাব ঢেকে রাখা হয়েছে। প্রেশার ড্রপ করা, পাইপলাইনের লিকেজ মেরামত না করা এবং প্রিপেইড মিটার বসাতে চরম বিলম্ব করা—সবকিছু মিলে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাটি চরম ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।

আমদানি নির্ভরতা এবং এলএনজি ব্যবস্থার জটিলতা

অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে ব্যর্থ হয়ে বিগত সরকারগুলো সহজ কিন্তু অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ হিসেবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়ে। ২০১৮ সাল থেকে দেশে স্পট মার্কেট ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। এতে করে গ্যাস খাতের মূল কৌশলটি ‘স্বনির্ভরতা’ থেকে রাতারাতি ‘আমদানিনির্ভরতা’য় রূপ নেয়।

এলএনজি আমদানির অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত হিসাবটি বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য অত্যন্ত জটিল। আন্তর্জাতিক বাজারে যখন এলএনজির দাম স্বাভাবিক থাকে, তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলেও বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তাপ (যেমন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বা মধ্যপ্রাচ্যের সংকট) তৈরি হলেই এলএনজির দাম সাধারণ বাজেটের বাইরে চলে যায়। উন্মুক্ত বাজার বা স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে এলএনজি কিনতে গিয়ে দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ খালি হয়ে যায়।

তাছাড়া, এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা এক ধরনের কারিগরি জিম্মিদশা তৈরি করেছে। বাংলাদেশে এলএনজি পুনর্নবীকরণ করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউ (FSRU) রয়েছে। এ ধরনের ভাসমান অবকাঠামো সামুদ্রিক ঝড়, সাইক্লোন কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির ক্ষেত্রে অত্যন্ত নাজুক। একটি টার্মিনাল কোনো কারণে অকেজো হলে বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শুকনা ডকে পাঠাতে হলে এক লহমায় দেশের মোট সরবরাহ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমে যায়। সম্প্রতি মহেশখালীর টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে যে সরবরাহ বিপর্যয় ঘটেছে, তা এই আমদানিনির্ভর কৌশলের ভয়াবহ চরম দুর্বলতাকেই উন্মোচিত করেছে।

সার্বিক অর্থনীতি ও জনজীবনে সংকটের বহুমুখী প্রভাব

গ্যাস সংকটের এই ভয়াবহ প্রভাব এখন দেশের প্রতিটি সেক্টরে ছড়িয়ে পড়েছে, যার সার্বিক অর্থনৈতিক খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।

জাতীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত (আরএমজি ও টেক্সটাইল) বর্তমানে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে। গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলগুলোতে ক্যাবটিভ পাওয়ার ও বয়লার চালানোর জন্য পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ মিলছে না। কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য যেখানে ১০ থেকে ১৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১ থেকে ৩ পিএসআই। উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এতে নতুন কার্যাদেশ হাতছাড়া হওয়া এবং কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত বা বন্ধ রাখার ফলে দেশীয় ইউরিয়া সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষিখাতকে রক্ষা করতে সরকার অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বিদেশ থেকে সার আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছে, যা রাজস্ব বাজেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

অন্যান্য শিল্প যেমন সিরামিক, রি-রোলিং মিল ও গ্লাস শিল্পেও ধস নেমেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দিতে না পারায় বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে হচ্ছে, অথবা সাময়িক লোডশেডিংয়ের পথ বেছে নিতে হচ্ছে। ফলে সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ী উভয়কেই বাড়তি বিদ্যুতের দাম পরিশোধ করার পরও নিরবচ্ছিন্ন আলো-বাতাস থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।

গৃহস্থালি জীবনে এই সংকট অমানসিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজধানীর প্রধান প্রধান এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গৃহিণীদের মধ্যরাতে উঠে সারাদিনের রান্না সেরে রাখতে হচ্ছে, অথবা দোকান থেকে অতিরিক্ত মূল্যে কেনা হোটেলের খাবারের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকরা পাম্পের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট করছেন, যার প্রভাবে পরিবহন ভাড়াও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় টেকসই সমাধানের উপায়

বাংলাদেশের এই তীব্র গ্যাস সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কোনো সহজ বা রাতারাতি সমাধান নেই। তবে সঠিক নীতি এবং সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে দেশের জ্বালানি খাতকে পুনরায় শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য সর্বপ্রথম ও প্রধান কাজ হলো দেশের অভ্যন্তরে অনশোর ও অফশোর দুই অঞ্চলেই নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে সর্বশক্তি নিয়োগ করা। বাপেক্সকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে মুক্ত করে সম্পূর্ণ পেশাদার ও প্রযুক্তিভিত্তিক সংস্থায় রূপান্তর করতে হবে। সমুদ্রে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আকর্ষণ করার জন্য প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) সময়োপযোগী করে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা প্রয়োজন। বঙ্গোপসাগরের তলদেশে যে বিশাল সম্পদ অনাবিষ্কৃত পড়ে আছে, তা উত্তোলনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া বিকল্প নেই।

দ্বিতীয়ত, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যমান বিতরণ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে। তিতাসসহ সকল বিতরণ কোম্পানির ডিজিটাল ম্যাপিং এবং প্রতিটি সংযোগে শতভাগ প্রিপেইড মিটার স্থাপন দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এতে গ্যাস চুরি, অবৈধ সংযোগ ও সিস্টেম লসের আড়ালে থাকা দুর্নীতি বন্ধ হবে। পুরোনো ও জীর্ণ পাইপলাইন দ্রুত পরিবর্তন করে উচ্চচাপ সহনশীল আধুনিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে।

তৃতীয়ত, জ্বালানি মিশ্রণে (Energy Mix) বৈচিত্র্য আনা এখন সময়ের দাবি। কেবল গ্যাস বা একক কোনো জ্বালানির ওপর নির্ভর না করে সৌর বিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুগ গতিতে বাড়াতে হবে। একই সাথে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে কেবল ভাসমান টার্মিনালের ওপর ভরসা না করে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল (Land-based LNG Terminal) নির্মাণ করা জরুরি, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করবে।

চতুর্থত, অপচয় বন্ধে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানি দক্ষতার (Energy Efficiency) ওপর জোর দিতে হবে। পুরোনো, দক্ষতা কম এমন বয়লার ও জেনারেটর পরিবর্তন করে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে, যাতে কম গ্যাসে বেশি উৎপাদন সম্ভব হয়।

গ্যাস সংকট আজকের বাংলাদেশে কেবল একটি সাময়িক নাগরিক ভোগান্তি নয়, এটি এখন পুরো দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও প্রবৃদ্ধির গতিধারা অক্ষুণ্ন রাখার প্রধান চ্যালেঞ্জ। অতীতে যে নীতিগত ভুল ও অবহেলা করা হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হবে। আমদানিনির্ভরতার পথ সহজ মনে হলেও তা যে দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে, বর্তমান সংকট তা পরিষ্কার প্রমাণ করেছে। এখন প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা, দুর্নীতিমুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা এবং দেশীয় সম্পদ অনুসন্ধানে সর্বাত্মক মনোযোগ দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে আর এমন জ্বালানি বিপর্যয়ের মুখে পড়তে না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *