আয়কর রিটার্ন ২০২৬:‘জিরো রিটার্ন’ দিলেই জেল!

আয়কর রিটার্ন ২০২৬:‘জিরো রিটার্ন’ দিলেই জেল!
শেয়ার করুন

আয়কর রিটার্ন ২০২৬, আয়-ব্যয় গোপন করে শূন্য রিটার্ন দাখিল ফৌজদারি অপরাধ, ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে এনবিআরের চূড়ান্ত সতর্কবার্তা

গণআওয়াজ ডেস্ক

সব ঘর ‘শূন্য’ বসিয়ে রিটার্ন দিলেই কি মুক্তি? মোটেও না! বরং এটি আপনাকে ঠেলে দিতে পারে ৫ বছরের কারাদণ্ডে। আয়কর রিটার্ন ২০২৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়কর রিটার্ন জমার সময় শেষ হচ্ছে, আর এর মধ্যেই এনবিআর দিয়েছে কঠোর হুঁশিয়ারি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান দিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না। জিরো রিটার্নের আড়ালে কর ফাঁকির পরিণাম কত ভয়াবহ হতে পারে, জানুন আজকের বিস্তারিত প্রতিবেদনে।

মিথ্যা ‘শূন্য’ রিটার্ন জমা দিলেই জেল-জরিমানা:
বাংলাদেশে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ঘনিয়ে আসছে। আয়কর রিটার্ন ২০২৬, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত সময়ের মধ্যে করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে করদাতাদের মধ্যে একটি বিপজ্জনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে— তা হলো ‘শূন্য’ বা ‘জিরো’ রিটার্ন জমা দেওয়া। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রকৃত আয়-ব্যয় গোপন করে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে শূন্য রিটার্ন জমা দেওয়া কেবল অনৈতিক নয়, বরং একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।

১. শূন্য রিটার্ন আসলে কী এবং ঝুঁকি কোথায়?
অনেকেই মনে করেন, রিটার্ন ফরমের সব ঘর ‘শূন্য’ লিখে জমা দিলেই আইনি ঝামেলা শেষ। কিন্তু আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, করদাতার প্রকৃত আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায় প্রদর্শন না করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

মিথ্যা তথ্যের শাস্তি: আয়কর আইনের ৩১২ ও ৩১৩ ধারা অনুসারে, রিটার্নে অসত্য তথ্য প্রদান করলে করদাতার ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

ভ্রান্ত ধারণা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে যে সব ঘর শূন্য দিয়ে রিটার্ন দাখিল করা যায়। এনবিআর কর কর্মকর্তারা এটিকে সম্পূর্ণ ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে চিহ্নিত করেছেন।

২. রিটার্ন দাখিল না করলে যে ৫টি বড় বিপদে পড়বেন
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক রিটার্ন জমা না দিলে আয়কর আইন অনুসারে আপনি নিচের পাঁচটি জটিলতায় পড়তে পারেন:

জরিমানা আরোপ (ধারা ২৬৬): রিটার্ন না দিলে সর্বশেষ নিরূপিত করের ১০% হারে জরিমানা দিতে হবে (ন্যূনতম ১,০০০ টাকা)। দেরি হলে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা জরিমানা যোগ হবে।

কর রেয়াত হারানো (ধারা ১৭৪): বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের সুবিধা বা কর অবকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়ে যাবে। অর্থাৎ আপনি বৈধভাবে কর কমানোর সুযোগ হারাবেন।

অতিরিক্ত ২% কর: নির্ধারিত সময়ের পর প্রতি মাসের জন্য বকেয়া করের ওপর অতিরিক্ত ২ শতাংশ হারে কর পরিশোধ করতে হবে।

পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন: এনবিআর কর্মকর্তাদের এখন বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। রিটার্ন জমা না দিলে আপনার গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে।

বেতন-ভাতা জটিলতা: সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের একটি নির্দিষ্ট সীমার পর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এটি না করলে আপনার মাসিক বেতন প্রাপ্তিতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
৩. সাধারণ করদাতার জন্য করণীয়
আপনার আয় করযোগ্য সীমার নিচে থাকলেও সঠিক তথ্য দিন। কোনো আয় না থাকলে এবং আপনি যদি সরকারি নির্দেশনায় টিআইএন নিয়ে থাকেন, তবে সঠিক উৎস উল্লেখ করে রিটার্ন দিন। কিন্তু কোনোভাবেই সম্পদ বা ব্যয়ের তথ্য গোপন করবেন না। বর্তমানে এনবিআরের সিস্টেম অনেক বেশি আধুনিক, তাই তথ্যের অমিল পাওয়া গেলে তা বড় আইনি ঝুঁকি তৈরি করবে।

আয়কর দেওয়া নাগরিক দায়িত্ব, তবে তার চেয়ে বড় দায়িত্ব হলো সঠিক তথ্য প্রদান করা। জেল-জরিমানা কিংবা পরিষেবা বিচ্ছিন্নের মতো কঠোর ব্যবস্থা এড়াতে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আপনার আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব দিয়ে রিটার্ন দাখিল করুন। মনে রাখবেন, একটি ‘মিথ্যা শূন্য’ রিটার্ন আপনার ৫ বছরের কারাদণ্ডের কারণ হতে পারে।

দেরি না করে আজই কর আইনজীবীর পরামর্শ নিন অথবা এনবিআরের ই-রিটার্ন পোর্টালে গিয়ে নিজের তথ্য যাচাই করুন। সময়মতো রিটার্ন জমা দিয়ে আইনি জটিলতা থেকে মুক্ত থাকুন।

আপনি কি এখনো রিটার্ন দাখিল করেননি? কমেন্টে জানান!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *