নিজস্ব প্রতিবেদক:
আজ রোববার (৭ জুন) বিকেল ৩টায় শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশনের প্রথম দিনেই কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সংসদের মোট মেয়াদ ও প্রতিদিনের কার্যসূচি চূড়ান্ত করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের বাজেট উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি বর্তমান সরকারের মেয়াদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম বাজেট হতে যাচ্ছে। প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, এবারের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
সম্পূরক বাজেট ও অধিবেশনের সময়সূচি
সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাজেট পেশের আগে আগামী ১৫ জুন (সোমবার) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস করার কথা রয়েছে। এরপর ১৬ জুন থেকে প্রস্তাবিত নতুন বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হবে। সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের দীর্ঘ আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে আগামী ৩০ জুন (মঙ্গলবার) এই বাজেট পাস করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজেটের মূল লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ম্যাক্রো-ইকোনমিক উইংয়ের সূত্র জানাচ্ছে, এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। তবে রেকর্ড বাজেট ঘাটতি (যা প্রায় ২.৪৩ লাখ কোটি টাকা হতে পারে) মেটাতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয় করা সরকারের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অধিবেশন উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আজ সকাল থেকে সংসদ ভবন এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রধারী ব্যক্তি, সমাবেশ, মিছিল এবং শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
