মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ২০২৬: যৌথ হামলায় তছনছ তেহরান

তেহরানে বিস্ফোরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা
শেয়ার করুন

অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ ও ‘লায়ন রোর’ এর ভয়াবহতা, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ২০২৬, তেলের বাজারে আগুন এবং বিশ্ব রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা,প্রতিশোধে কাঁপছে তেহরান

পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক আগ্নেয়গিরি! ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তেহরানে দফায় দফায় বিস্ফোরণ ঘটছে। পাল্টা প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল ও মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করা হচ্ছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিল?

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ২০২৬ এখন আর কোনো সাধারণ সামরিক অভিযান নয়;

এটি রূপ নিয়েছে এক ভয়াবহ বৈশ্বিক মহাকাব্যে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’, অন্যদিকে ইরানের ‘প্রতিশোধের দাবানল’—সব মিলিয়ে পুরো বিশ্ব এখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।

কেন চার মার্কিন সেনা নিহত হলো? কেন কুয়েতের আকাশে বিধ্বস্ত হলো আমেরিকার সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান?

এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রতিটি পরত জানতে আমাদের এই বিশেষ দীর্ঘ প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

খামেনির মৃত্যু এবং নেতৃত্ব সংকট

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

ভোরবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।

মার্কিন প্রশাসন এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েলি বাহিনী এর নাম দিয়েছে ‘লায়ন রোর’।

এই আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার মুহূর্তেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে তেহরানে।

এক শক্তিশালী বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।

হোয়াইট হাউস এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত ৪৮ জন নেতা এই অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন।

খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে শোক ও ক্রোধের ছায়া নেমে আসে।

ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে। সাধারণত সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল গঠন করা হয়।

কিন্তু বর্তমান বিশৃঙ্খলার কারণে কাউকেই জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নেতৃত্বশূন্যতা ইরানের বিপ্লবী সরকারের ভিত্তি নড়িয়ে দিতে পারে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, এই অনিশ্চয়তা মধ্যপ্রাচ্যের পুরো ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যকে অস্থিতিশীল করতে পারে।

অপারেশন এপিক ফিউরি: ধ্বংসস্তূপে পরিণত ১৩১ শহর

শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত ইরানের প্রায় ১৩১টি শহরে তান্ডব চালানো হয়েছে।

বিশেষ করে রাজধানী তেহরান এখন ধ্বংসস্তূপের স্তূপে পরিণত হয়েছে।

রেভোল্যুশন স্কয়ার এবং নিলোফার স্কয়ারের মতো জনাকীর্ণ এলাকায় বোমা বর্ষণের ফলে বহু বেসামরিক নাগরিক আহত বা নিহত হয়েছেন।

ইরানের আইনপ্রণেতা ফাতেমেহ মোহাম্মদ বেগ জানিয়েছেন, শুধু তেহরানেই নয়টি হাসপাতালে হামলা চালানো হয়েছে।

পারমাণবিক স্থাপনাগুলোও এই আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পায়নি।

নাতাঞ্জ এবং ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনার কাছে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে যে IRGC সদর দপ্তর পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।

রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, গত তিন দিনে ইরানে নিহতের সংখ্যা ৫৫৫ ছাড়িয়েছে।

এর মধ্যে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৮০ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে এক আতঙ্ক তৈরি করেছে।

শহরগুলোতে বিদ্যুৎ এবং পানীয় জল সরবরাহও কঠিন হয়ে পড়েছে।

হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সামগ্রী সংকটাপন্ন।

মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই ধ্বংসযজ্ঞ ইরানের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।


ইরানের পাল্টা প্রতিশোধ

নিহতের শোক এবং ক্ষোভে ইরান হাত গুটিয়ে বসেনি।

সর্বোচ্চ নেতা হত্যার প্রতিশোধ নিতে তারা ‘অপারেশন ট্রুথফুল প্রমিজ ৩’ শুরু করেছে।

ইরান কেবল ইসরায়েল নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, তাদের সবার ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং বাহরাইনের জ্বালানি স্থাপনাগুলো ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

কুয়েতের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান ওড়ার সময় কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা বাহীর ভুল গুলিতে তিনটি এফ-১৫ ইগল যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।

যদিও ক্রু সদস্যরা বেঁচে আছেন, এটি যুদ্ধের ময়দানে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের ঘাঁটিতেও ইরানি শাহেদ ড্রোন আঘাত হেনেছে।


মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেলের বাজারে আগুন

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের কম্পন শুরু হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিশ্বের জ্বালানি তেলের প্রধান উৎস।

সৌদি আরামকোর তেল শোধনাগার এবং কাতার এনার্জির স্থাপনাগুলো আক্রান্ত হওয়ার পর জ্বালানি তেলের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৩ শতাংশ বেড়ে ৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ, সেটি কার্যত বন্ধ।

ইরান হুমকি দিয়েছে যে এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

এর ফলে কেবল তেলের দাম নয়, বরং বিশ্বব্যাপী নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।


লেবানন ও হিজবুল্লাহর সম্পৃক্ততা

ইরানের প্রধান মিত্র লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীও এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে।

খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে তারা ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক রকেট হামলা চালিয়েছে।

এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান হুসেইন ম্যাকলেড নিহত হয়েছেন।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে অন্তত ৫২ জন নিহত হয়েছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লেবাননের এই সম্পৃক্ততা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল

এবং দীর্ঘমেয়াদি করতে পারে।


ট্রাম্পের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।

তিনি ইরানের সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে মার্কিন জনগণের মধ্যে এই যুদ্ধ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৭ শতাংশ আমেরিকান এই হামলাকে সমর্থন করছেন।

রাশিয়া ও চীন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং একে ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের’ অবৈধ চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে।


যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং কৌশলগত অনিশ্চয়তা

পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মতে, এই যুদ্ধ অন্তত ৪–৫ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।

তবে সামরিকভাবে এগিয়ে থাকলেও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্পষ্ট যুদ্ধ শেষের পরিকল্পনা নেই।

ইরান নতি স্বীকার করার চেয়ে যুদ্ধ করে টিকে থাকাকেই শ্রেয় মনে করছে।

তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তা আলী লারি জানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না ইরান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা গুরুতর প্রভাবিত হবে।

পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা ও তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি

ইরানের নাতাঞ্জ এবং ইসফাহানে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কাছে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

যদি কোনো স্থাপনার মূল অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে পুরো অঞ্চলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরান দাবি করেছে যে, ইসরায়েল জেনেশুনেই পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

আকাশসীমা বন্ধ ও বৈশ্বিক ভ্রমণের বিপর্যয়

যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা এখন বেসামরিক বিমানের জন্য পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ এবং ব্রিটিশ এয়ারওয়েজসহ বড় সব এয়ারলাইনস তাদের কয়েক হাজার ফ্লাইট বাতিল করেছে।

এর ফলে লাখ লাখ যাত্রী দুবাই, দোহা এবং ইস্তাম্বুলের মতো বিমানবন্দরগুলোতে আটকা পড়েছেন।

কোভিড মহামারির পর পর্যটন খাত যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, ঠিক তখন এই যুদ্ধ বিশ্ব ভ্রমণ ব্যবস্থাকে আবার কয়েক বছর পিছিয়ে দিল।

রণকৌশল বনাম রাজনৈতিক বাস্তবতা: সামনে কী?

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথম তিন দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কৌশলগতভাবে অনেক এগিয়ে গেছে।

তারা ইরানের নেতৃত্বের মূলে আঘাত করেছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে।

কিন্তু ইতিহাস বলে, কেবল বিমান হামলা চালিয়ে কোনো দেশকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়।

ইরান যদি দীর্ঘমেয়াদি গেরিলা যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং তাদের আঞ্চলিক প্রক্সিগুলোকে (যেমন: ইয়েমেনের হুথি বা ইরাকের মিলিশিয়া) পুরোপুরি সক্রিয় করে,

তবে এই সংঘাত কয়েক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

পেন্টাগন মনে করছে, যুদ্ধটি আরও ৪-৫ সপ্তাহ চলতে পারে।

তবে এরই মধ্যে রাশিয়া ও চীন ইরানের সমর্থনে সরব হয়েছে।

মস্কো এই হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে।

যদি চীন ও রাশিয়া এই যুদ্ধে পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়,

তবে এটি একটি পূর্ণমাত্রার বিশ্বযুদ্ধে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ২০২৬ এখন এক এমন মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখান থেকে ফিরে আসার কোনো সহজ রাস্তা নেই।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু ইরানের জন্য কেবল একটি নেতার প্রস্থান নয়,

এটি একটি আদর্শিক সংকটের শুরু।

অন্যদিকে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যে ঝুঁকি নিয়েছে, তার মূল্য এখন পুরো বিশ্বকে দিতে হচ্ছে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার অনিশ্চয়তার মাধ্যমে।

সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন কোটি কোটি মানুষের উদ্বেগের বিষয়।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সর্বশেষ আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট সাবস্ক্রাইব করুন এবং আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *