গণআওয়াজ ডেস্ক
২০২৬ নির্বাচন ও রমজান: পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে টিসিবির মেগা প্ল্যান এবং ট্রাক সেলের নতুন দিনক্ষণ
বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচন। ঠিক তার সপ্তাহখানেক পরেই শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের সাধারণ মানুষের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে নিত্যপণ্যের দাম। প্রতি বছর রোজা এলেই বাজারে যে অস্থিরতা দেখা দেয়, এবার নির্বাচনী ডামাডোলে তা আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের শেষ ভরসা সরকারি সংস্থা টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) পণ্য বিক্রি কার্যক্রম কবে শুরু হবে, তা নিয়ে ছিল ধোঁয়াশা। তবে সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, রোজা সামনে রেখে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংস্থাটি।
নির্বাচনী ডামাডোল এবং নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের এই সন্ধিক্ষণে টিসিবির কার্যক্রম পরিচালনা করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও কর্তৃপক্ষ আশা দিচ্ছে ইতিবাচক। টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, এবার রমজান উপলক্ষে পাঁচ ধরনের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য—ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুর পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত করা হয়েছে। বিশেষ করে ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা ছোলার বিশাল চালান ইতিমধ্যে দেশের গুদামগুলোতে পৌঁছেছে। সাধারণত নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক ব্যস্ততা এবং কর্মকর্তাদের ভোট গ্রহণে যুক্ত থাকার কারণে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম কিছুটা স্তিমিত থাকে। তবে এবার রোজার গুরুত্ব বিবেচনা করে ভোটের ঠিক কয়েক দিন পরেই ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে বড় পরিসরে ট্রাক সেল শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) মতে, নির্বাচনের পরপরই রমজান আসায় এটি নবনির্বাচিত সরকারের জন্য প্রথম অগ্নিপরীক্ষা হতে পারে। ক্যাব সভাপতি মনে করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই সময়ে সিন্ডিকেট বা অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর পায়তারা করতে পারে। তাই সাধারণ মানুষের জন্য টিসিবির ট্রাক সেল এবং ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম সঠিক সময়ে শুরু হওয়া একান্ত জরুরি। যদি ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রাক সেল শুরু হয়, তবে তা ৩০ থেকে ৩৫ লাখ সাধারণ ভোক্তার জন্য বড় স্বস্তির কারণ হবে। এছাড়া সারাদেশে বর্তমানে সক্রিয় ৬৬ লাখ স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিয়মিতভাবে তাদের বরাদ্দকৃত পণ্য নির্ধারিত ডিলার পয়েন্ট থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।
২০২৬ সালের এই বিশেষ পরিস্থিতিতে টিসিবি তাদের কার্যক্রমে আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এবার প্রাপ্তবয়স্ক যে কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রাক থেকে দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল ও এক কেজি চিনি কিনতে পারবেন। এছাড়া রমজান উপলক্ষে এর সাথে যুক্ত হবে দুই কেজি ছোলা ও ৫০০ গ্রাম খেজুর। যদিও টিসিবির পণ্য বিতরণে এবার ট্রাক সেলের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডকে, যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা হয়রানি ছাড়া পণ্য পান। তবে ট্রাকে পণ্য বিক্রির কার্যক্রমটি শহরের ভাসমান এবং কার্ডহীন মানুষের জন্য বড় একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে টিসিবির এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কেবল পণ্য বিতরণ নয়, বরং বাজার স্থিতিশীল রাখার একটি অন্যতম হাতিয়ার। সরকারের ভুর্তকি মূল্যের পণ্য যদি সময়মতো বাজারে না পৌঁছায়, তবে নির্বাচনী পরবর্তী অস্থিরতায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠতে পারে। তাই সাধারণ মানুষ এখন তাকিয়ে আছে ১৭ ফেব্রুয়ারির দিকে। টিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পণ্য বিক্রির চূড়ান্ত দাম এবং পরিমাণ কার্যক্রম শুরুর একদিন আগেই গণমাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। নির্বাচনের আমেজ শেষ হতে না হতেই রমজানের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়া সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—এবার যেন লাইনে দাঁড়িয়ে খালি হাতে ফিরতে না হয়।
নির্বাচন ও রোজা একই সময়ে হওয়ায় বাজার ব্যবস্থাপনায় যে শূন্যতা তৈরি হওয়ার কথা ছিল, তা কাটাতে টিসিবির এই আগাম প্রস্তুতি প্রশংসনীয়। কিন্তু মূল চ্যালেঞ্জ হবে এর সুষ্ঠু বন্টন এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ। যদি টিসিবি তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারে এবং নিয়মিত ট্রাক সেল অব্যাহত থাকে, তবে হয়তো রমজানের উত্তাপ সাধারণ মানুষের রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছাবে না। এখন দেখার বিষয়, নতুন সরকারের অধীনে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এই বিশাল যজ্ঞ কীভাবে সফল হয়।
আপনার কি মনে হয়, কেবল টিসিবির পণ্য দিয়ে কি রোজার বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? কমেন্টে জানান।

moijpur
moijlur
Hmm
ভালো উদ্যোগ