গণআওয়াজ ডেস্ক
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ৫ দিনের লম্বা ছুটিতে দেশ, জানুন কোনগুলো খোলা আর কোনগুলো বন্ধ
টানা ছুটির ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে দেশ। আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে উৎসবের আমেজ যেমন আছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মনে রয়েছে নানা কৌতূহল—ভোটের দিন কি ব্যাংক খোলা থাকবে? রাইড শেয়ারিং কি চলবে? নাকি বন্ধ থাকবে শপিংমল? জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আগামী কয়েকদিন দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় আসছে ব্যাপক পরিবর্তন। বিশেষ করে বুধবার থেকে শুরু করে শনিবার পর্যন্ত টানা ছুটির সুযোগ পাচ্ছেন চাকরিজীবীরা, যা মূলত ভোটের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ইতোমধ্যে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। তবে ছুটির আমেজ শুরু হচ্ছে তারও আগে থেকে। ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার থেকেই শিল্প-কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এরপর ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) সরকারি সাধারণ ছুটি। আর এর পরপরই শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা পাঁচ দিনের একটি দীর্ঘ অবসর পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই দীর্ঘ ছুটিতে অনেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন, যার ফলে বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভোটের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস এবং আদালত বন্ধ থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগসহ দেশের সব বিচারিক কার্যক্রম এই সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবে। এছাড়া দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলো নির্বাচনের আগের দিন থেকেই প্রস্তুতির জন্য বন্ধ থাকবে।
বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটের আগের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি এবং ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি—এই দুই দিন সারাদেশের সব বড় শপিংমল, বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে পাড়া-মহল্লার মুদি দোকান ও কাঁচাবাজার খোলা রাখার অনুমতি রয়েছে। মূলত কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার থেকে আবারও স্বাভাবিক নিয়মে শপিংমলগুলো খোলার কথা রয়েছে।
নির্বাচনের সময় অবৈধ অর্থের লেনদেন রুখতে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) যেমন—বিকাশ, নগদ বা রকেটে লেনদেনের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এই সময়ে ১০ হাজার টাকার বেশি লেনদেন করা যাবে না এবং তা করতে হবে কিস্তিতে (একবারে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা)। এছাড়া এজেন্ট পয়েন্ট থেকে ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন গ্রাহকপ্রতি দৈনিক নগদ লেনদেন ১ লাখ টাকার বেশি না হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি সব ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠান পূর্ণ দিবস বন্ধ থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। ফলে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের বাইক সেবা এই তিন দিন পাওয়া যাবে না। এছাড়া ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে এবং বিদেশগামী যাত্রীদের ক্ষেত্রে টিকেট প্রদর্শন সাপেক্ষে চলাচলের শিথিলতা থাকবে। সংবাদপত্র বহনকারী যান ও অ্যাম্বুলেন্স এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
সাধারণ ছুটি থাকলেও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে কিছু নির্দিষ্ট খাত সম্পূর্ণ সচল থাকবে। হাসপাতাল, ফায়াস সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি এবং টেলিযোগাযোগ সেবা (ইন্টারনেট ও ফোন) স্বাভাবিক থাকবে। এছাড়া গণমাধ্যমকর্মী অর্থাৎ সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য ছুটির আওতামুক্ত থাকবেন। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারদের জন্য কোনো ছুটি কার্যকর হবে না।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের এলাকাগুলোতে বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার বা বাসিন্দা ছাড়া অন্য কেউ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। তাই যারা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য একটাই—একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
আপনি কি ভোটের দিন আপনার এলাকায় যাচ্ছেন? কমেন্টে জানান!
