প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭: কোন পণ্যের দাম কমবে, কোনটির বাড়বে?

শেয়ার করুন

অনলাইন ডেক্স | গণ আওয়াজ

সদ্য ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিশাল অঙ্কের ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন “আমাদের সংসার চলবে তো?” এক বুক মূল্যস্ফীতির বোঝা আর বাজারের আগুনের মধ্যে নতুন সরকার তাদের প্রথম বাজেট পেশ করেছে। অর্থমন্ত্রী সংসদে বড় বড় অঙ্কের খতিয়ান দেখালেও, আমজনতার আসল নজর এখন বাজারের থলিতে।
আসুন, সোজাসাপ্টা ভাষায় দেখে নেওয়া যাক কোন কোন পণ্যে সামান্য স্বস্তির হাওয়া লেগেছে, আর কোন কোন পণ্যে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।

যেটুকু স্বস্তি: জনমানুষের জন্য কিছুটা হলেও কমছে যেগুলোর দাম
বাজারের এই দুঃসময়ে খেটে খাওয়া মানুষ আর মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস রুখতে সরকার কিছু জরুরি পণ্যের ট্যাক্স কমাতে বাধ্য হয়েছে। যদি ব্যবসায়ীরা সততা দেখান, তবে নিচের জিনিসগুলোর দাম কমতে পারে:
সংসারের নিত্যপণ্য (চাল-ডাল-তেল): সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের মুখে চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল আর ডালের মতো ৬০টি মৌলিক খাদ্যপণ্যের উৎসে কর এক ধাক্কায় কমিয়ে মাত্র ০.৫% করা হয়েছে। ফলে বাজারে এসব পণ্যের দাম কমা এখন সময়ের দাবি।

মসলাপাতি ও ইফতারের খেজুর: জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ ও ধনিয়ার ওপর থাকা ৫% নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। রোজা ও উৎসবের প্রিয় খেজুরের ওপর থেকেও ৫% শুল্ক বিদায় করা হয়েছে।

শিশুখাদ্য ও দুধ: ঘরের সন্তানদের দুধ ও শিশুখাদ্য তৈরির কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ১৫% থেকে নামিয়ে ১০% করা হয়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ ও যুবসমাজের গ্যাজেট: তরুণদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, প্রিন্টার ও মনিটরের ওপর থেকে সব ধরনের আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশে তৈরি মোবাইল ও সিসিটিভি ক্যামেরার দামও কমবে।

ক্যান্সার ও কিডনি রোগীর ওষুধ: জীবনরক্ষাকারী ওষুধের খরচ কমাতে ক্যান্সার প্রতিরোধী ৯টি উপকরণের শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য করা হয়েছে। কিডনি ডায়ালাইসিসের ফিল্টার এবং চোখের লেন্সের দামও কমছে।

নির্মম কোপ: মধ্যবিত্ত ও সাধারণের পকেটে যেগুলোর টান পড়বে
বাজেটের ঘাটতি মেটাতে বরাবরের মতোই কিছু জায়গায় ট্যাক্সের বোঝা চাপানো হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের কাঁধেই এসে পড়বে:

ধূমপায়ীদের পকেট ফাঁকা: ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে সিগারেটের প্রতি প্যাকেটের দাম বাড়ানো হয়েছে। ১০ শলাকার সর্বনিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম হবে ৬২ টাকা। এটা বলতে গেলে সুখবরও। ধূমপায়ীরা কিছুটা হলেও যদি ধূমপান কমিয়ে দেয়।

মাথার ওপর ছাদ গড়ার স্বপ্ন ভাঙল: রড ও স্টিল তৈরির কাঁচামালের ওপর ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে বাড়ি বানানোর খরচ এক লাফে বাড়বে, যা মধ্যবিত্তের ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্নকে আরও কঠিন করে তুলবে।

ব্যক্তিগত গাড়ি ও যাতায়াত: মধ্যবিত্তের স্বপ্নের জ্বালানিচালিত গাড়ি (১২০০ থেকে ১৬০০ সিসি) আমদানির করভার ১৩২.৩৬% থেকে বাড়িয়ে এক লাফে **
১৫৫.৮৮% করা হয়েছে। তবে সুখবর হলো, পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ির (EV) ট্যাক্স কমানো হয়েছে।

আমদানি করা ফল ও কফি: বিদেশি ফল ও প্যাকেটজাত কফির ওপর কর বাড়ানোর কারণে এগুলো এখন আরও বেশি বিলাসিতার বস্তু হয়ে দাঁড়াবে।

সংসারের প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক্স: যারা একটু স্বস্তির জন্য ঘরে ওয়াশিং মেশিন কেনার কথা ভাবছিলেন, তাদের জন্য দুঃসংবাদ। বিদেশি ওয়াশিং মেশিনের ওপর নতুন করে ২০% সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়েছে।

কাগজে-কলমে শুল্ক কমলেই কি বাজারে দাম কমে? বাংলাদেশের বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে এই শুল্ক ছাড়ের সুবিধা সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছাবে না, বরং তা চলে যাবে অসাধু ব্যবসায়ীদের পকেটে। আগামী ১ জুলাই থেকে এই বাজেট কার্যকর হবে। দেখার বিষয়, সরকার দাম কমানোর এই ঘোষণা বাজারে কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *