বাংলাদেশে গণভোট একেবারে নতুন না হলেও দীরঘদিন ধরে এটার সাথে জনগণের তেমন কোন পরিচয় নাই ।তার উপর আবার এবারের গণভোট একাধিক বিষয়ের উপর হওয়াতে এবং জাতীয় নির্বাচনের সাথে একইদিনে পড়াতে এটাকে নিয়ে আমাদের আগ্রহের মাত্রা কিছুটা কম । এটা নিয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বেশকম পরিলক্ষিত হচ্ছে তা এ বিষয়ে আমি কিছু কথা বলতে চাই ।
মোটা থেকে বলতে গেলে যেসব বিষয় গণভোট হচ্ছে সেগুলো সবই সাংবিধানিক এবং শাসনতান্ত্রিকসংস্কারের সাথে জড়িত । ঐকমত্য কমিশনের সাথে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিন আলাপআলোচনা হয়েছে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এবং সেই আলোচনার বিষয়বস্তু অনেকখানি নির্ধারিত হয়েছে
সংস্কারের জন্য গঠিত বিভিন্ন কমিশনের রিপোর্টের মাধ্যমে । তাহলে একটু সংক্ষেপে দেখি হ্যাঁ ভোট দিলে কী কী সংস্কার হতে পারে ।১) প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমে যাবে ( ১০ বছরের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না
।) এবং রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে পরামর্শে আসামিদেরকে মাফ করতে পারবেন না ।
২) সংসদের সংসদের উচ্চ কক্ষ গঠিত হবে সংখ্যানুপাতিক ভোটের মাধ্যমে যার ফলে নিবর্তনমূলক কোন আইন সহজে পাস হতে পারবে না বা পাওয়ার সম্ভাবনা এখানে কমে যাবে এবং সংবিধান নিয়ে আমরা গত ৫০
বছরে যে কাটাছেঁড়া দেখেছি যার কারণে সংবিধানের একটা অর্থহীন কাগজে পরিণত হয়েছে, সেটাও সেখান থেকে আশা করা যায় মুক্তি পাবো কারণ সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করার জন্য সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের পাশাপাশি গণভোট লাগবে ।
৩) ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির প্রধান হোক প্রধান নির্বাচিত দল থেকে । এতে করে আশা করা যায় একটা ব্যালেন্স তৈরি হবে আর আরেকটা বড় পরিবর্তন আসবে সত্তরের অনুচ্ছেদ পরিবর্তন এর মাধ্যমে
একটা দেশের সাংবিধান সংস্কার হওয়াটা জরুরী তবে সেটা পর্যাপ্ত না সেটা আমাদের জানা দরকার তবে আশা করা যায় যে এই পরিবর্তন এই পরিবর্তনগুলোর মাধ্যমে আমরা আরো বড় পরিবর্তন থেকে যেতে পারবো আশা করি আমরা সেই পথে কিছুটা হলে অগ্রসর হব যদিও তখনও থাকবে আর যদি না পরিচয় হয় তাহলে এসব কিছুই হবে না । অনেকে অপপ্রচার আছে যে গণভোটে হ্যাঁ দিলে একাত্তরকে অস্বীকার করা হবে । আমি যে সমস্ত ব্যাপারে আলোচনা করলাম সেটার সাথে আপনার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছে একাত্তরকে
কে অস্বীকার করার কোন সম্পর্ক নাই । যারা এই ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে আমার মনে হয় আমাদের উচিত তাদেরকে খুব সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা
