শপথের মাহেন্দ্রক্ষণ: মঙ্গলবারই কি ফিরছে বিএনপি সরকার? তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সূর্যোদয়ের প্রতীক্ষায় বাংলাদেশ!

১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে এমপিদের শপথ, বিকেলে বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার অভিষেক!
শেয়ার করুন

গণআওয়াজ ডেস্ক

জটিলতা কাটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা: মঙ্গলবার সকালে এমপিদের শপথ, বিকেলে বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার অভিষেক!

অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান! ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন সবার নজর ঢাকার রাজপথ আর বঙ্গভবনের দিকে। স্পিকার নেই, ডেপুটি স্পিকার কারাগারে—এমন নজিরবিহীন সাংবিধানিক জটিলতার মুখে প্রশ্ন উঠেছিল, কে পড়াবেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ? কিন্তু সমস্ত আইনি ধোঁয়াশা কাটিয়ে আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। তারেক রহমানের সরকার গঠন আর এক হাজার অতিথির উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য শপথ অনুষ্ঠানের ইনসাইড স্টোরি জানতে চোখ রাখুন আজকের বিশেষ প্রতিবেদনে।

দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষা আর এক রুদ্ধশ্বাস নির্বাচনের পর অবশেষে নতুন সরকারের অভিষেকের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। একই দিনে বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে এবারের শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যায় যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায় হয়ে থাকবে।

বৃহস্পতিবার ২৯৯ আসনে সফল ভোটগ্রহণের পর শুক্রবার রাতেই ২৯৭ জন বিজয়ীর গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি এখন রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কিন্তু সাংবিধানিক নিয়মে সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের হলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বর্তমানে আত্মগোপনে এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় তৈরি হয়েছে আইনি শূন্যতা।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের দফা ২(ক) অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে যদি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পাঠ করাতে অসমর্থ হন, তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই দায়িত্ব পালন করবেন। অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারক ও বিএনপি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মঙ্গলবার সকালেই সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। বিএনপির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে শপথ নিলে ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার ঝুঁকি থাকে, তাই সিইসির মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করাই হবে সবচেয়ে ‘নিরাপদ’ এবং বিতর্কমুক্ত পথ।

সংসদ সদস্যদের শপথের পরপরই শুরু হবে মন্ত্রিসভা গঠনের আনুষ্ঠানিকতা। নিয়ম অনুযায়ী, শপথ গ্রহণকারী সংসদ সদস্যরা তাদের দলীয় নেতা নির্বাচন করবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তারেক রহমান রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি পেশ করবেন এবং রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলেই বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রায় এক হাজার বিশিষ্ট অতিথিকে এই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকার নবনির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়। রমজান মাস শুরুর আগেই একটি পূর্ণাঙ্গ এবং স্থিতিশীল সরকার নিশ্চিত করা এখন সব পক্ষের প্রধান লক্ষ্য। ২০০৮ সালের পর এটিই হবে বাংলাদেশে প্রথম কোনো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার, যেখানে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে।

নতুন সংসদ গঠিত হওয়ার পর প্রথম বৈঠকেই সংসদ সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার নির্বাচিত করবেন। সংবিধানের ৭৪ ধারা অনুযায়ী, আগের স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে বা পদত্যাগ করলেও পরবর্তী স্পিকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত আগের স্পিকারই পদে বহাল থাকেন। তবে বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতিতে, সিইসির শপথ পাঠের পর সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী কোনো একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য অস্থায়ীভাবে সংসদ পরিচালনা করবেন। এরপর অধিবেশনে বিধি মোতাবেক নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সরকার গঠন প্রক্রিয়া কেবল একটি ক্ষমতার বদল নয়, বরং এটি ভেঙে পড়া সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠনের একটি বড় পরীক্ষা। দীর্ঘকাল পর সংসদের উচ্চকক্ষে ভিন্নমতের চর্চা এবং জবাবদিহিতামূলক রাজনীতি ফিরে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। মঙ্গলবার শপথের মধ্য দিয়ে যে নতুন যাত্রার সূচনা হতে যাচ্ছে, তা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

নতুন স্পিকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনার পছন্দের তালিকায় কে আছেন? বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের শপথ পাঠ করানোকে আপনি কি সঠিক আইনি সমাধান মনে করেন? কমেন্টে জানান!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *