ব্যালটে বন্দি ভাগ্য: ভোটগ্রহণ শেষ, শুরু হচ্ছে গণনা

শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ সমাপ্ত হয়। এখন চলছে ভোট গণনার প্রস্তুতি।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগে যারা ভোটকেন্দ্রে লাইনে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের ভোট গ্রহণ শেষ করার পরই গণনা কার্যক্রম শুরু হবে।

সকাল সাড়ে ৭টায় দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং টানা নয় ঘণ্টা ভোট গ্রহণ চলে। তবে শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। ওই আসনে পরবর্তীতে নতুন তফসিল অনুযায়ী ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, গণনার সময় প্রথমে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পৃথক করা হবে। এরপর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আলাদাভাবে দুই ধরনের ভোট গণনা করবেন।

ইসি’র তথ্য অনুযায়ী, এবারের ভোটে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

দিনজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। খুলনার ভৈরবে এক বিএনপি নেতা অসুস্থ হয়ে মারা যান। কোথাও কেন্দ্র দখল বা জালভোটের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। কিছু স্থানে হামলা, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে, যাতে কয়েকজন আহত হন।

তবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কোথাও ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে কুমিল্লা-৮, শরীয়তপুর-২ ও পটুয়াখালী-১ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিতের দাবি জানিয়েছে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোট। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেননি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

ভোট পরিচালনায় এবার ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।

নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জন জেলা প্রশাসক এবং তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রয়েছেন ৫৯৮ জন।

৬০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন এবং পুরুষ প্রার্থী ১ হাজার ৯৪৬ জন।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। উপকূলীয় পাঁচ জেলায় নৌবাহিনীর ৫ হাজার সদস্য এবং বিমানবাহিনীর সাড়ে ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

এছাড়া বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্টগার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র‍্যাব ৯ হাজার ৩৪৯ জন, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন এবং বিএনসিসির ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *