আপসহীন রাজনীতির ঘোষণা: রয়টার্সকে তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা

শেয়ার করুন

জাতীয় রাজনীতির টানটান উত্তেজনার মধ্যেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে দিয়েছেন—ক্ষমতায় গেলে তিনি আপসের রাজনীতির পথে হাঁটতে আগ্রহী নন। বিশেষ করে নির্বাচন-পরবর্তী কোনো ঐক্য সরকার কিংবা রাজনৈতিক সমঝোতার প্রশ্নে তার অবস্থান একেবারেই অনমনীয়।

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের পর যদি বিরোধী শক্তির সঙ্গেই সরকার গঠন করা হয়, তবে সংসদে কার্যকর বিরোধী দল থাকবে কোথায়—এই প্রশ্ন থেকেই তিনি ঐক্য সরকারের ধারণা নাকচ করেন। তার ভাষায়, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা আলাদা হওয়াই স্বাভাবিক, সেখানে ক্ষমতা ভাগাভাগির রাজনীতি গণতন্ত্রকে দুর্বল করে।

তিনি আরও জানান, বিএনপি নির্বাচন করছে সরকার গঠনের স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়েই। দলটি নিজের শক্তি ও জনসমর্থনের ওপর আস্থা রাখে এবং বিশ্বাস করে যে এককভাবেই সরকার গঠন করার মতো আসন তারা পাবে। যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ করেননি, তবে বক্তব্যের ভঙ্গিতে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ছিল না।

রয়টার্সের প্রশ্নে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রসঙ্গ উঠলে তারেক রহমান জানান, ক্ষমতায় যাওয়ার পর কারও সঙ্গে আপস নয়, বরং জনগণের রায়ের ভিত্তিতেই সরকার পরিচালিত হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার নামে ক্ষমতা ভাগাভাগির যে প্রস্তাব বিভিন্ন মহল থেকে আসে, সেটিকে তিনি মূলত অনির্বাচিত সমঝোতার রাজনীতি বলেই দেখেন।

বিদেশনীতির প্রশ্নেও তারেক রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপি কোনো নির্দিষ্ট পরাশক্তির দিকে ঝুঁকে পড়বে না। বরং বাংলাদেশ ও তার জনগণের স্বার্থই হবে ভবিষ্যৎ সরকারের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে—এমন বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক রাজনীতির প্রশ্নও উঠে আসে। ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্ব বা তাদের পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, রাজনীতিতে অংশ নেওয়া কারও জন্মগত অধিকার নয়, আবার নিষিদ্ধও করা যায় না। শেষ সিদ্ধান্ত জনগণের—যদি মানুষ কাউকে গ্রহণ করে, তবে সেই রাজনীতির পথ খোলা থাকাই গণতান্ত্রিক বাস্তবতা।

সব মিলিয়ে রয়টার্সকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান যে বার্তাটি স্পষ্ট করেছেন তা হলো—বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আপসহীনভাবে একক সরকার পরিচালনা করতে চায়। ঐক্য সরকার, ক্ষমতা ভাগাভাগি কিংবা পর্দার আড়ালের রাজনৈতিক সমঝোতা—এসব ধারণার বাইরে গিয়েই দলটি নিজেদের ভবিষ্যৎ রূপরেখা আঁকছে। এখন দেখার বিষয়, এই দৃঢ় অবস্থান কতটা জনসমর্থনে রূপ নেয় এবং দেশের রাজনীতিতে কী ধরনের নতুন সমীকরণ তৈরি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *