ইরানে ‘অনুচ্ছেদ ১১১’ সক্রিয়—নতুন মুখ আলোচনায়, বাস্তবতা কী?
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এক চাঞ্চল্যকর দাবি—ইরানের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ সক্রিয় হয়েছে এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বে এসেছেন আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি। বলা হচ্ছে, ৩৬ বছর পর ইরান পেয়েছে নতুন মুখ। তবে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখনো পরিষ্কার ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা মেলেনি।
অনুচ্ছেদ ১১১ কী বলে?
ইরানের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি সর্বোচ্চ নেতা অক্ষম হন বা পদ শূন্য হয়, তাহলে একটি অস্থায়ী তিন সদস্যের নেতৃত্ব কাউন্সিল দায়িত্ব পালন করে। এই কাউন্সিলে থাকেন—
রাষ্ট্রপতি,
প্রধান বিচারপতি,
এবং অভিভাবক পরিষদের একজন ফকিহ সদস্য।
বর্তমানে ইরানের রাষ্ট্রপতি হলেন Masoud Pezeshkian এবং প্রধান বিচারপতি Gholam-Hossein Mohseni-Eje’i। আর অভিভাবক পরিষদ হলো Guardian Council—যারা আইন ও প্রার্থিতা যাচাই করে।
তাই “এককভাবে কেউ ইরান চালাচ্ছেন”—এ ধরনের দাবি সংবিধানের কাঠামোর সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আলিরেজা আরাফি কে?
Alireza Arafi ইরানের প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের একজন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কওমের ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তার পরিচিতির মধ্যে রয়েছে—
ইরানের সেমিনারি ব্যবস্থার পরিচালক,
অভিভাবক পরিষদের সদস্য,
এবং বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন।
বিশেষজ্ঞ পরিষদই ভবিষ্যৎ সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে। অর্থাৎ, যিনি নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ার অংশ, তাকেই ঘিরে এখন নেতৃত্বের গুঞ্জন—এটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
ক্ষমতার প্রেক্ষাপট
বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন। তার আগে ছিলেন Ruhollah Khomeini। এই দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিকতায় শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের যে কোনো ইঙ্গিতই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ঘটনা।
ভাইরাল পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছে, আরাফি ইংরেজি ও আরবি ভাষায় দক্ষ, ২০২২ সালে ভ্যাটিকানে গিয়ে Pope Francis-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ইরানের বার্তা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এসব তথ্য আংশিকভাবে পরিচিত হলেও “তিনি এখন কার্যত সর্বোচ্চ নেতা”—এ দাবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
বিশেষজ্ঞ পরিষদের ভূমিকা
ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হলো Assembly of Experts। তারা স্থায়ী নেতা নির্বাচন না করা পর্যন্ত অস্থায়ী কাঠামো কার্যকর থাকে। ফলে মূল প্রশ্ন—এই পরিষদ কি আরাফিকেই স্থায়ী নেতা করবে, নাকি অন্য কেউ সামনে আসবেন?
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের বড় অংশই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। ইরানের মতো সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যাচাইহীন খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়া অস্বাভাবিক নয়। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সরকারি ঘোষণা ও নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সূত্রের দিকে নজর রাখা জরুরি।
পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে বিস্তারিত বিশ্লেষণসহ জানানো হবে।
