মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দ্রুত এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রেসিডেন্ট Donald Trump চাইলে এই সপ্তাহান্তেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। প্রশাসন ও পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের সামনে এখন কূটনীতি অব্যাহত রাখা নাকি যুদ্ধে যাওয়ার মতো উচ্চঝুঁকির সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্ন রয়েছে।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো প্রকাশ্যে জানাননি তিনি কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর সক্ষমতা গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা এই সপ্তাহেও অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা হলেও সেই প্রস্তুতিতে কোনো বিরতি দেখা যায়নি। আলোচনায় ইরান কূটনৈতিক সমাধানের বিস্তারিত প্রস্তাব দিতে দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করতে হবে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করতে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। সম্ভাব্য হামলায় ইসরায়েল অংশ নিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি বাহিনী কয়েক সপ্তাহ ধরে উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠক বৃহস্পতিবার থেকে সরিয়ে রোববার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দুইজন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
কূটনৈতিক অগ্রগতি, কিন্তু বড় ব্যবধান রয়ে গেছে
মার্কিন প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে সন্দিহান। মঙ্গলবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী “নির্দেশনামূলক নীতিমালা” নিয়ে ঐকমত্যের কথা বললেও মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন—অগ্রগতি হয়েছে, তবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনো বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে তাঁর শর্ত মানতেই হবে, অন্যথায় কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
তবে গত জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ১২ দিনের অভিযানের আট মাস পর আবার হামলা হলে তা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। ওই অভিযানে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু ছিল।
নতুন হামলা হলে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
“যুদ্ধ এড়ানোর” প্রতিশ্রুতি বনাম নতুন সামরিক বিবেচনা
ক্ষমতায় আসার সময় যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের বাইরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এখন তিনি আরেকটি সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিষয় বিবেচনা করছেন—যা হবে গত এক বছরে অন্য দেশে অন্তত সপ্তম মার্কিন সামরিক হামলা এবং ইরানে দ্বিতীয়।
গত জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি “সম্পূর্ণ ধ্বংস” হয়েছে। কিন্তু এখন আবার সামরিক পদক্ষেপের চিন্তা—প্রশ্ন তুলছে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে।
এবারের উদ্দেশ্য আগের তুলনায় কতটা বিস্তৃত বা সীমিত—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির বিস্তার
বর্তমান সামরিক মোতায়েনের মধ্যে রয়েছে
- কয়েক ডজন এয়ার রিফুয়েলিং ট্যাংকার
- ৫০টিরও বেশি অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান
- দুইটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ
বর্তমানে অঞ্চলে রয়েছে USS Abraham Lincoln। এর সঙ্গে যোগ দিতে জিব্রাল্টারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে USS Gerald R. Ford—যা সম্প্রতি ক্যারিবীয় অঞ্চলে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro–এর সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির নৌ অভিযানে অংশ নিয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নিলে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তবে এখনো কূটনৈতিক আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
ওয়াশিংটনের সামনে এখন দ্বিধায়, আলোচনার সুযোগ দেওয়া, নাকি সামরিক পদক্ষেপে অগ্রসর হওয়া।
সূত্র: The New York Times
