চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কেন অবস্থান বদলে ফেললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? সৌদি আরবের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে নিষেধাজ্ঞা আর ইসরায়েলকে স্বীকৃতির কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়ে পুরো চুক্তিকেই এখন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফক্স নিউজের সমালোচনা আর হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই কি এর মূল কারণ?
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত (আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়া) এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করতেই চুক্তি স্বাক্ষরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।মূলত রক্ষণশীল গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা, হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা এবং ইসরায়েলের পরোক্ষ চাপের কারণেই ট্রাম্প চুক্তিটি সম্পন্ন হওয়ার পরদিনই নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে এটিকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেন। ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে স্পষ্ট জানান, চুক্তি কার্যকর করতে হলে সৌদি আরবকে অবশ্যই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়ে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে হবে। চুক্তিটি প্রকাশের পর ট্রাম্পের পছন্দের চ্যানেল ফক্স নিউজ এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ বিভিন্ন রক্ষণশীল গণমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত ছাড়াই কেন এই চুক্তি করা হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হন। সূত্র মতে, হোয়াইট হাউস চেয়েছিল বুধবার জ্বালানি মন্ত্রণালয় যেন চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেয়। কিন্তু মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন, যা ট্রাম্পকে দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য করে। মধ্যপ্রাচ্যের কোনো মুসলিম দেশ পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করুক—তা ইসরায়েল চায় না। ফলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরোক্ষ প্রভাবও ট্রাম্পের এই ইউ-টার্নের পেছনে অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই নতুন শর্তে চুক্তিটির ভবিষ্যৎ বড় ধাক্কা খেয়েছে। কারণ, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করার নীতিতে অটল রয়েছে। সৌদির অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানানো হয়েছে, চুক্তিটি যেহেতু ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়ে গেছে, তাই টুইট বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে চুক্তি বাতিল বা নতুন করে শর্ত আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।
