দীর্ঘ গোপন সম্পর্ক, বাগদানের গুঞ্জন, ভাইরাল এয়ারপোর্ট ভিডিও — সব ইঙ্গিত কি ২৬ ফেব্রুয়ারির দিকেই? জেনে নিন বিস্তারিত।
দক্ষিণী সিনেমার পর্দায় তাদের রসায়ন দেখে লাখো দর্শক প্রেমে পড়েছিলেন। গীতা গোবিন্দম, ডিয়ার কমরেড এর সেই প্রেম যখন সেলুলয়েডের পর্দা পেরিয়ে বাস্তবের ‘লাজুক হাসি’ আর ‘গোপন আংটি’তে রূপ নেয়, তখন ভক্তদের মনে একটাই প্রশ্ন জাগে— তবে কি সত্যিই ‘শ্রীভল্লি’ এবার বিজয়ের ঘরণী হতে চলেছেন? সাম্প্রতিক একটি এয়ারপোর্ট ভিডিও যেন সব জল্পনাকে নতুন মোড় দিয়েছে। টলিউড থেকে বলিউড, গত কয়েক বছর ধরে পেজ থ্রির এই হট কেক কাপলকে নিয়ে যে গুঞ্জন টক অফ দ্য টাউন ছিল, ২০২৬-এর এই বসন্তেই কি তার শুভ পরিণয়?
দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রেমের গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। কিন্তু রাশ্মিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডার সম্পর্ক নিয়ে যে দীর্ঘদিন ধরে চর্চা চলছে, তা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। প্রায় আট বছর ধরে তাঁদের ঘিরে প্রেম, বাগদান ও বিয়ের খবর ঘুরপাক খাচ্ছে। অথচ প্রকাশ্যে কখনও তাঁরা বিষয়টি স্বীকার করেননি। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে—এই প্রেমকাহিনি হয়তো এবার সত্যিই পরিণয়ের পথে।
২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সুপারহিট তেলুগু ছবি ‘গীতা গোবিন্দম’-এ প্রথমবার জুটি বাঁধেন রাশ্মিকা ও বিজয়। পর্দায় তাঁদের রসায়ন দর্শকদের এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে, সিনেমা শেষ হওয়ার পরও সেই কেমিস্ট্রি নিয়ে আলোচনা থামেনি। ধীরে ধীরে সেই অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি বাস্তব জীবনেও গুঞ্জনের জন্ম দেয়।
ছবির প্রচারের সময় থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইভেন্টে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা, একসঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্ত, এমনকি সামাজিক মাধ্যমে মিল পাওয়া লোকেশন ট্যাগ — সবকিছু মিলিয়ে নেটিজেনদের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়।
রাশ্মিকার ব্যক্তিগত জীবনও কম আলোচিত নয়। ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কন্নড় সুপারহিট ছবি ‘কিরিক পার্টি’ দিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি। সেই ছবির সহ-অভিনেতা রক্ষিত শেট্টির সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে ২০১৭ সালে বাগদান পর্যন্ত গড়ায় সম্পর্ক। কিন্তু ২০১৮ সালেই আচমকা সেই বাগদান ভেঙে যায়।
এই বিচ্ছেদের পর রাশ্মিকা পুরোপুরি নিজের কেরিয়ারে মন দেন। স্যান্ডালউড ছাড়িয়ে তেলুগু ও তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। মহেশ বাবু, আল্লু অর্জুন, কার্তি, নিথীনদের সঙ্গে কাজ করে হয়ে ওঠেন দক্ষিণী সিনেমার অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় নায়িকা। একই সঙ্গে বলিউডেও তাঁর পদচারণা শুরু হয়।
২০১৮–২০২৫ এই পুরো সময়জুড়ে রাশ্মিকা ও বিজয় ছিলেন গসিপের কেন্দ্রে। ভক্তরা লক্ষ্য করেন—দু’জনের ছুটির সময় প্রায়ই মিলে যায়, ইনস্টাগ্রামের ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে মিল পাওয়া যায়, কখনও লাঞ্চ ডেটের ছবি ভাইরাল হয়, কখনও একই রিসোর্ট বা ভ্যাকেশন স্পট থেকে পোস্ট, তবু দু’জনেই প্রতিবার বিষয়টিকে “বন্ধুত্ব” বলেই এড়িয়ে গিয়েছেন।
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের খবর অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর, দশেরার ঠিক পরদিন হায়দরাবাদে নাকি বাগদান সারেন এই তারকা জুটি। অনুষ্ঠানটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। শুধু দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য ও কাছের বন্ধুরাই উপস্থিত ছিলেন।
এমনকি একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে বিজয়ের টিম সূত্রে এই বাগদানের খবর নিশ্চিতও করা হয়েছিল। তখনই জানানো হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেই বিয়ে করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তবে কোনো ছবি প্রকাশ করা হয়নি, যাতে বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রাখা যায়।
সম্প্রতি একটি বিমানবন্দরের ভিডিও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রাশ্মিকা ভক্তদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলছেন। এক ফটোগ্রাফার তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন,
“২৬ তারিখের জন্য অপেক্ষায় আছি!”
এই কথায় কোনো আপত্তি না করে রাশ্মিকা লাজুক হাসি দিয়ে মৃদু মাথা নাড়েন। এই মুহূর্তটুকুই নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই এটিকে বিয়ের তারিখের নীরব স্বীকৃতি হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
এর মধ্যেই রাজস্থানের উদয়পুরের একটি ঐতিহ্যবাহী প্যালেসে বিয়ের প্রস্তুতির খবর ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি একটি ভাইরাল ভিডিওতে দাবি করা হয়, সেখানে বিয়ের তোড়জোড় চলছে। যদিও পরে রাশ্মিকা নিজেই বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দেন।
তবে ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, বিয়েটি হতে পারে খুবই ঘরোয়া আয়োজনে। রাজস্থানে মূল অনুষ্ঠান এবং পরে হায়দরাবাদে ইন্ডাস্ট্রির বন্ধুদের জন্য আলাদা রিসেপশনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
কেরিয়ারের তুঙ্গে থাকা এই দুই তারকা এখন শুধু দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রি নয়, পুরো ভারতের হার্টথ্রব। রাশ্মিকা ও বিজয় দু’জনেই তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনকে লাইমলাইটের বাইরে রাখতে পছন্দ করেন। অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই হয়তো তাঁরা এবার সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। কান্তারা পরিচালক ঋষভ শেঠির হাত ধরে শুরু করা সেই মেয়েটি আজ বলিউডেও রাজত্ব করছেন। তবে সব সাফল্যের মাঝেও বিজয়ের সাথে তার এই অমীমাংসিত সমীকরণটিই এখন সবচেয়ে বড় রহস্য।
সব তথ্য, গুঞ্জন ও সাম্প্রতিক ইঙ্গিত মিলিয়ে বলাই যায়—ফেব্রুয়ারির ২৬ তারিখেই সাত পাকের সম্ভাবনা প্রবল। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও বাকি। সত্যিই তারা সাত পাকে ঘুরবেন, নাকি এটিও কেবল একটি প্রমোশনাল স্টান্ট— তা সময়ই বলে দেবে।
দক্ষিণী সিনেমার অনুরাগীদের চোখ এখন ক্যালেন্ডারের পাতায়।
