সুলভ মূল্যে প্রোটিন বিক্রির মেগা উদ্যোগ – ঢাকায় ২৫+ স্পট, সারাদেশে ৪৮ পর্যন্ত, ২৬ দিন ধরে চলবে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়!
রমজান এলেই প্রোটিনজাত খাবারের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যায়, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় চাপ। এবার সেই চাপ কমাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এসেছে সত্যিকারের স্বস্তির খবর। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আসন্ন রমজানে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে গরুর মাংস, ব্রয়লার মুরগি, দুধ ও ডিম বিক্রি হবে সরকার নির্ধারিত সাশ্রয়ী দামে। বর্তমান বাজারে যেখানে গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে, সেখানে ৬৫০ টাকায় পাওয়া যাবে—এটি রোজাদারদের জন্য সত্যিই বড় সুযোগ।
গত ১ ফেব্রুয়ারি (রোববার) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। পরের দিন ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য রমজানে প্রাণিজ আমিষের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা। প্রতি বছরের মতো এবারও কর্মসূচি চালু হলেও এবার বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হতে পারে।
ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে বিক্রি হবে নিম্নলিখিত দামে:
গরুর মাংস: প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা
ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি: প্রতি কেজি ২৪৫ টাকা
পাস্তুরিত দুধ: প্রতি লিটার ৮০ টাকা
ডিম: প্রতিটি ৮ টাকা (প্রতি ডজন ৯৬ টাকা)
এই দামগুলো বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম। বিশেষ করে ডিম ও দুধের দামে রোজাদারদের সেহরি-ইফতারে বড় সুবিধা হবে। সরকারের এই ভর্তুকি-ভিত্তিক দাম নির্ধারণ উৎপাদন খরচ, পরিবহন ও সরবরাহ চেইন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচি চলবে রমজানের আগের দিন থেকে ২৫ রমজান পর্যন্ত—মোট ২৬ দিন। প্রাথমিকভাবে ঢাকা মহানগর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থাকবে। প্রস্তাবিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে:
আবদুল গনি রোড (সচিবালয় সংলগ্ন)
খামারবাড়ি (ফার্মগেট)
মিরপুর ৬০ ফুট রোড
আজিমপুর মাতৃসদন
নয়াবাজার
উত্তরা হাউস বিল্ডিং
রামপুরা বাজার
হাজারীবাগ
আরামবাগ
কালশী
মানিকনগর
শাহজাদপুর
কড়াইল বস্তি
কামরাঙ্গীরচর
খিলগাঁও
নাখালপাড়া
সেগুনবাগিচা
মোহাম্মদপুর
কাকরাইল
বনশ্রী
মিরপুর-১০
কল্যাণপুর
তেজগাঁও
বঙ্গবাজার
ঢাকার বাইরে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় বাজার অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। কিছু সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে মোট বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা ৪৮-এর কাছাকাছি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে স্থায়ী স্পট নির্ধারণ করে আরও বাড়ানো হবে।
সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য রমজানে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃত্রিম সংকট রোধ করা। প্রতি বছর রমজানে প্রোটিনের দাম ২০-৩০% পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা নিম্নআয়ের মানুষের পুষ্টি চাহিদা কমিয়ে দেয়। এই সুলভ বিক্রির মাধ্যমে সরকার বাজারে একটা ‘প্রাইস বেঞ্চমার্ক’ তৈরি করছে, যা বেসরকারি বিক্রেতাদেরও দাম কমাতে চাপ সৃষ্টি করবে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি সাময়িক হলেও কার্যকর। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে এই কর্মসূচি জনপ্রিয় হয়েছে, তবে কখনো সীমিত সরবরাহের কারণে লম্বা লাইন ও বিশৃঙ্খলা হয়েছে। এবার স্থান বাড়ানো এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সরবরাহ ধারাবাহিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সফলতা নির্ভর করবে বিতরণের স্বচ্ছতা, মান নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ের ওপর।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানের মতে, রোজাদারদের কষ্ট লাঘবই মূল লক্ষ্য। সার্বিকভাবে এই উদ্যোগ রমজানের পবিত্রতা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করার জনমুখী পদক্ষেপ। রোজাদাররা যেন এই সুবিধা পান, তাই সরকারি ঘোষণা অনুসরণ করে কেনাকাটা করুন।
আপনি কি মনে করেন সরকারের এই উদ্যোগ সারাবছর রাখা উচিৎ? কমেন্টে জানান!
পরবর্তী আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।
