মার্কিন প্রেসিডেন্টের ৭টি নিষিদ্ধ কাজ, ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে ৭টি কাজ করতে পারেন না, জানুন সিক্রেট সার্ভিসের নিয়মাবলি।
গণআওয়াজ ডেস্ক
হোয়াইট হাউসে থাকা মানেই কি যা খুশি তা-ই করার ক্ষমতা? আপাতদৃষ্টিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ মনে হলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে এমন কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যা জানলে আপনি চমকে যাবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ৭টি নিষিদ্ধ কাজ। জানালা খোলা থেকে শুরু করে নিজের গাড়ি চালানো—একজন সাধারণ মানুষের জন্য যা তুচ্ছ, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য তা আইনত নিষিদ্ধ। ক্ষমতার আড়ালে এই নিয়ন্ত্রিত জীবনের অজানা কাহিনী জানুন আজকের বিশেষ প্রতিবেদনে।
ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও ‘বন্দি’ জীবন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে ৭টি সাধারণ কাজ করতে পারেন না
মার্কিন প্রেসিডেন্ট মানেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে হোয়াইট হাউস, এয়ার ফোর্স ওয়ান আর বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। যে মানুষটির এক ইশারায় বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে যায়, তাঁর জীবনটা কেমন? আমরা মনে করি তিনি যা খুশি তা-ই করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ক্ষমতার এই পর্বতপ্রমাণ পরিধির আড়ালে লুকিয়ে আছে কঠোর কিছু বিধিনিষেধ। এমন কিছু অতি সাধারণ কাজ যা একজন সাধারণ মানুষ প্রতিদিন করেন, সেগুলো করা মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য রীতিমতো অসম্ভব বা নিষিদ্ধ। নিরাপত্তা, আইন এবং ঐতিহ্যের বেড়াজালে আবদ্ধ সেই রহস্যময় জীবন নিয়েই আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন।
১. নিজের গাড়ি নিজে চালানো নিষিদ্ধ
আমেরিকার সাধারণ নাগরিকদের জন্য ড্রাইভিং একটি নিত্যদিনের শখ বা প্রয়োজন। কিন্তু দায়িত্ব পালনকালীন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট কখনোই খোলা রাস্তায় নিজের গাড়ি নিজে চালাতে পারেন না।
কেন এই নিয়ম: নিরাপত্তার খাতিরে তাঁদের যাতায়াত পুরোপুরি সিক্রেট সার্ভিসের অধীনে থাকে।
ব্যতিক্রম: লিন্ডন বি জনসন ছিলেন শেষ প্রেসিডেন্ট যিনি রাস্তায় গাড়ি চালিয়েছিলেন। তবে ক্যাম্প ডেভিড বা ব্যক্তিগত খামারবাড়ির মতো কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় তাঁরা সীমিত পরিসরে গাড়ি চালাতে পারেন। যেমন জর্জ ডব্লিউ বুশকে তাঁর নিজের খামারে গাড়ি চালাতে দেখা যেত।
২. সাধারণ গ্যাজেট ও স্মার্টফোন ব্যবহার
সাইবার সিকিউরিটির যুগে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য বাজারে প্রচলিত যেকোনো আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করা এক প্রকার অসম্ভব। প্রেসিডেন্টের সব যোগাযোগ হতে হয় হ্যাকার-প্রুফ এবং এনক্রিপ্টেড।
উদাহরণ: বারাক ওবামা তাঁর প্রিয় ব্ল্যাকবেরি ফোন ব্যবহারের জন্য দীর্ঘ লড়াই করেছিলেন। পরে তাঁকে বিশেষভাবে সুরক্ষিত একটি সংস্করণ দেওয়া হয়। জো বাইডেন বা ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও বিশেষভাবে পরিবর্তিত ডিভাইস এবং ‘বার্নার ফোন’ ব্যবহার করতে হয়েছে।
৩. হোয়াইট হাউসের জানালা খোলা
শুনতে অবাক লাগলেও, হোয়াইট হাউসের জানালা খোলার অনুমতি প্রেসিডেন্টের নেই। প্রতিটি জানালা বুলেটপ্রুফ এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সবসময় সিল করা থাকে।
মিশেল ওবামার আক্ষেপ: সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা একবার রসিকতা করে বলেছিলেন, হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নেওয়ার পর তিনি প্রথম যে কাজটি করতে চান তা হলো—একটি জানালা খুলে প্রাণভরে তাজা বাতাস নেওয়া!
৪. সোশ্যাল মিডিয়ায় কাউকে ‘ব্লক’ করা
সাধারণ মানুষ বিরক্ত হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে কাউকে ব্লক করতে পারেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য এটি বেআইনি। ২০১৮ সালের একটি ফেডারেল আদালতের রায় অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট যদি কাউকে ব্লক করেন তবে তা নাগরিকদের মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে। ফলে তিনি চাইলেও তাঁর সমালোচকদের ব্লক করতে পারেন না।
৫. সন্তানদের সাধারণ স্কুলে পাঠানো বা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া
সন্তানের স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া বা নাচের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া একজন বাবার জন্য খুব সাধারণ বিষয়। কিন্তু প্রেসিডেন্টের জন্য এটি এক বিশাল নিরাপত্তা ঝুঁকি। তিনি কোথাও গেলে পুরো এলাকা সিক্রেট সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণে নিতে হয়, যা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই অনেক সময় প্রেসিডেন্টের সন্তানদের জন্য হোয়াইট হাউসের ভেতরেই বিশেষ ক্লাসরুমের ব্যবস্থা করা হয়।
৬. বাণিজ্যিক বিমানে ভ্রমণ
আপনি চাইলে কালই টিকিট কেটে যেকোনো এয়ারলাইন্সে উড়াল দিতে পারেন, কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট তা পারেন না। বাণিজ্যিক বিমানগুলো সিক্রেট সার্ভিসের জন্য নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তাই প্রেসিডেন্টের যাতায়াতের জন্য বরাদ্দ থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুরক্ষিত বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’। বাণিজ্যিক বিমানে চড়ার কোনো অনুমতিই তাঁর নেই।
৭. নথি ফেলা বা নিজ হাতে অফিস পরিষ্কার
প্রেসিডেনশিয়াল রেকর্ডস অ্যাক্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের প্রতিটি চিঠি, ইমেইল বা চিরকুট সরকারি নথি হিসেবে সংরক্ষিত হতে হয়। ফলে তিনি চাইলেও নিজের অফিসের ঝুড়িতে কোনো কাগজ ফেলে দিতে পারেন না। তাঁর সব কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রাখা বাধ্যতামূলক, যা জাতীয় আর্কাইভে জমা দিতে হয়।
ক্ষমতার আড়ালে এক বিলাসপূর্ণ কারাগার?
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পদের অধিকারী হয়েও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার এই অভাব প্রমাণ করে যে, ক্ষমতা সবসময় সীমাহীন স্বাধীনতা নিয়ে আসে না। ১৮ ইউএসসি ৩০৫৬ (18 USC 3056) আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট চাইলেও সিক্রেট সার্ভিসের সুরক্ষা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন না। ক্ষমতার শীর্ষে থাকা এই মানুষটির জীবন অনেকটা ‘স্বর্ণ খাঁচার পাখির’ মতো। আমাদের কাছে যা খুব সাধারণ, তাঁর কাছে তা-ই চরম বিলাসিতা।
আপনি কি মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন নিয়ন্ত্রিত জীবন কাটাতে চাইতেন? কমেন্টে জানান!
