গণ আওয়াজ প্রতিবেদন :
দেশের রপ্তানি আয়ে আবারও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। এপ্রিল মাসে সাময়িকভাবে ইতিবাচক ধারায় ফেরার পর মে মাসে সেই গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অর্থনৈতিক মহলে।
এক্সপোর্ট প্রোমোশন ব্যুরো (EPB)–এর সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে বাংলাদেশের মোট merchandise রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪.৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.০৭ শতাংশ কম। এই পতন দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক আয়ের ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করেছে।
রপ্তানি আয়ের এই নিম্নমুখী প্রবণতার সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে তৈরি পোশাক খাতের দুর্বল পারফরম্যান্স। মে মাসে এই খাতে রপ্তানি কমেছে ৮.২৯ শতাংশ, যা মোট রপ্তানি আয়ের বড় অংশ হওয়ায় সার্বিক পতনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক ধীরগতি, এবং নতুন ক্রয়াদেশ কমে আসাই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান অর্ডার কমিয়ে দেওয়ায় এবং কিছু ক্ষেত্রে অর্ডার স্থগিত রাখায় রপ্তানি খাতে এই চাপ তৈরি হয়েছে।
এপ্রিল মাসে কিছুটা ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও তা ছিল মূলত স্বল্পমেয়াদি পুনরুদ্ধার, যা মে মাসে এসে টেকসই হয়নি। ফলে রপ্তানি খাতে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিনির্ভরতা এবং বৈশ্বিক বাজারের ওঠানামার কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বারবার ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে চাপ আরও বাড়তে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
