জাহানারার অভিযোগে নিষিদ্ধ মঞ্জুরুল

যৌন হয়রানির দায়ে সাবেক ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামকে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি।
শেয়ার করুন

জাহানারার অভিযোগে নিষিদ্ধ মঞ্জুরুল,নারী বিশ্বকাপের সেই ‘মন্দ স্পর্শ’ ও অশালীন প্রস্তাবের সত্যতা পেল বিসিবি; ক্রিকেটীয় সব কর্মকাণ্ড থেকে আজীবন নিষিদ্ধ মঞ্জুরুল ইসলাম।

জাহানারার অভিযোগে মঞ্জুরুলকে আজীবন নিষিদ্ধ: বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে নজিরবিহীন পদক্ষেপ

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। জাতীয় নারী দলের সাবেক অধিনায়ক ও তারকা পেসার জাহানারা আলমের যৌন হয়রানির অভিযোগের ভিত্তিতে সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এক ভার্চুয়াল বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলে ক্রিকেটাঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: সাহসী অভিযোগ

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের নভেম্বরে। অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী জাহানারা আলম একটি সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন।
তাঁর ভাষ্যমতে, ২০২২ সালের নারী বিশ্বকাপ চলাকালীন মঞ্জুরুল ইসলাম অশালীন প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়া, তিনি বিভিন্ন সময়ে নারী ক্রিকেটারদের ‘মন্দ স্পর্শ’ (Bad Touch) করতেন।

এই অভিযোগের পরপরই বিসিবি বিচারপতি তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত প্রতিবেদন ও বিসিবির সিদ্ধান্ত

জাহানারা আলম তদন্ত কমিটির কাছে চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করেন।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর, ৪ ফেব্রুয়ারি বিসিবি জানায় যে চারটি অভিযোগের মধ্যে অন্তত দুইটির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনের মূল বিষয়গুলো:

  • অসদাচরণ ও হয়রানি: কমিটি জানিয়েছে, মঞ্জুরুলের আচরণ পেশাদার মানদণ্ডের পরিপন্থী। এটি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ ও হয়রানি’।
  • আজীবন নিষেধাজ্ঞা: বিসিবি মঞ্জুরুল ইসলামকে সব ধরনের ক্রিকেট-সম্পর্কিত কার্যক্রম থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
  • আইনি ব্যবস্থা: প্রতিবেদনটি বিসিবির লিগ্যাল টিমের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা ফৌজদারি বা অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

বিসিবির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, নারী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অগ্রাধিকার
মঞ্জুরুল ইসলাম বর্তমানে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলে (এসিসি) কর্মরত থাকলেও, বিসিবির কোনো দায়িত্বে আর কখনোই ফিরতে পারবেন না।
ফলস্বরূপ, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অন্যান্য ক্রীড়া সংগঠক ও কোচদের জন্য একটি শক্ত বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

অন্যান্য অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণ

জাহানারা আলমের অভিযোগে বিসিবির নারী উইংয়ের প্রয়াত ইনচার্জ তৌহিদ মাহমুদের নামও ছিল। তবে তদন্ত কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সত্যতা পাননি।
মঞ্জুরুল ইসলামের পক্ষ থেকে শাস্তির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি বিসিবির কোনো পদে নেই।

নারী ক্রিকেটের জন্য নতুন আশা

জাহানারা আলমের এই প্রতিবাদ বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য এক নতুন আশার আলো
যৌন হয়রানি রুখতে বিসিবির এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও আজীবন নিষেধাজ্ঞা প্রশংসার দাবি রাখে
একইভাবে, খেলার মাঠে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি

আলোচনা: নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ

বিসিবির এই কঠোর পদক্ষেপ কি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে?
নিশ্চয়ই এটি একটি প্রভাবশালী precedent
দীর্ঘমেয়াদে নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কর্মসূচিও প্রয়োজন।

বিসিবির এই কঠোর সিদ্ধান্ত কি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে? আপনার মতামত কমেন্ট বক্সে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *