আন্তর্জাতিক ডেস্ক | গণ আওয়াজ
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত ৬০টি দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশন (ইউএসআইটিসি)-এর তথ্যের ভিত্তিতে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিমালার অংশ হিসেবে মার্কিন ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের (ইউএসটিআর) সুপারিশক্রমে এই নতুন শুল্ক কাঠামো প্রয়োগ করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার বেশ কিছু উন্নয়নশীল ও বিকাশমান অর্থনীতির দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কী প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের ওপর?
রয়টার্স ও বাণিজ্য বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে। মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রধান রফতানি খাতই হলো পোশাক শিল্প। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের মূল্য বৃদ্ধি পাবে, যা মার্কিন ক্রেতাদের কাছে প্রতিযোগিতার বাজারে চাপ তৈরি করতে পারে।
তবে শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, প্রতিযোগী অন্যান্য কয়েকটি দেশও এই নতুন শুল্ক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে বাণিজ্য ভারসাম্যে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত:
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন শুল্কের কারণে মার্কিন আমদানিকারকদের খরচ বাড়বে, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে সেদেশের ভোক্তাদের ওপর গিয়ে পড়বে। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর রফতানি বৃদ্ধিতে সাময়িক মন্দা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি রফতানিকারকদের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে অন্যান্য বাজার (যেমন—ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও মধ্যপ্রাচ্য) আরও সক্রিয় করা এবং উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ সরকার ও দেশের বাণিজ্য সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে এই শুল্ক আরোপের সার্বিক প্রভাব পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজনে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের পথ খুঁজছে।
সূত্র: রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।
