স্পেসএক্স ও এক্সএআই-এর মেগা চুক্তিতে ইলন মাস্কের সম্পদ বাড়ল ৮৪ বিলিয়ন ডলার; ২০২৭ সালেই কি তবে প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার?
আপনি কি কল্পনা করতে পারেন কোনো ব্যক্তির সম্পদ বাংলাদেশের কয়েক বছরের জাতীয় বাজেটের সমান? অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটিই এখন বাস্তব। ইতিহাসের সব রেকর্ড দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৮০০ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন টেক জায়ান্ট ইলন মাস্ক। তার রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানি xAI-এর একীভূতকরণের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে এক নতুন অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য। মাস্কের এই উল্কাপিণ্ড গতির উত্থান কি তাকে ২০২৭ সালের মধ্যেই বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ বানিয়ে ছাড়বে?
বিশ্বের সম্পদশালীদের তালিকায় এতদিন রাজত্ব করলেও এবার যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেলেন ইলন মাস্ক। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে নাম লিখিয়ে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৮০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের পাহাড় স্পর্শ করেছেন তিনি। বুধবারের (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানা যায়, মাস্কের রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স (SpaceX) এবং তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানি এক্সএআই (xAI) একীভূত হওয়ার পর এই অভাবনীয় মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। ফোর্বস এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক আর্থিক সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই একক চুক্তিতে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদ এক লাফে ৮৪ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে তার মোট নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৮৫২ বিলিয়ন ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পেসএক্স এবং এক্সএআই-এর এই সংযুক্তির ফলে গঠিত যৌথ প্রতিষ্ঠানের বাজার মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলার। চুক্তির আগে স্পেসএক্সের বাজার মূল্য ছিল ৮০০ বিলিয়ন ডলার, যেখানে মাস্কের ৪২ শতাংশ শেয়ারের মূল্য ছিল ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, এক্সএআই-এর ২৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে তার ৪৯ শতাংশ শেয়ারের দাম ছিল ১২২ বিলিয়ন ডলার। একীভূতকরণের পর নতুন এই মেগা-কোম্পানিতে মাস্কের শেয়ার দাঁড়িয়েছে ৪৩ শতাংশে, যার একক বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫৪২ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে মাস্কের দীর্ঘদিনের প্রধান সম্পদ ‘টেসলা’কে পেছনে ফেলে স্পেসএক্স এখন তার পোর্টফোলিওতে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে।
শুধুমাত্র মহাকাশ গবেষণা বা এআই নয়, মাস্কের সম্পদের একটি বিশাল অংশ এখনো বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা (Tesla) থেকে আসে। টেসলায় তার ১২ শতাংশ শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৭৮ বিলিয়ন ডলার। এর পাশাপাশি তার কাছে আরও ১২৪ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের স্টক অপশন রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, গত বছরের ডিসেম্বরেই তিনি ৭০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ৮০০ বিলিয়নের গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়া তার ব্যবসায়িক কৌশলের এক অবিস্মরণীয় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিলিয়নিয়ারদের দৌড়ে মাস্ক এখন এমন এক উচ্চতায় যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজও অনেক পিছিয়ে। ল্যারি পেজের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৮১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, মাস্ক এবং পেজের সম্পদের ব্যবধান এখন রেকর্ড ৫৭১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। গত চার মাসে মাস্ক মোট চারবার নিজের গড়া রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, মাস্কের এই প্রবৃদ্ধির হার যদি বজায় থাকে, তবে ২০২৭ সালের মধ্যেই তিনি বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ (১ লাখ কোটি ডলারের মালিক) হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন।
এক বছরের কম সময়ের মধ্যে এটি মাস্কের দ্বিতীয় বড় একীভূতকরণ। এর আগে গত মার্চে তিনি এক্সএআই এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) একত্রিত করেছিলেন। তবে বাজার বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ এই মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ, এই একীভূতকরণ চুক্তিতে মাস্ক নিজেই ক্রেতা এবং বিক্রেতা—উভয় ভূমিকায় ছিলেন। নিজের এক কোম্পানির সাথে অন্য কোম্পানির এই ‘অভ্যন্তরীণ’ লেনদেন নিয়ে কঠোর নজরদারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে চলতি বছরের শেষ দিকে স্পেসএক্স পাবলিকলি শেয়ার ছাড়ার (IPO) প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে, যা এই মূল্যায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
ইনফরমা কানেক্ট একাডেমির প্রাক্কলন অনুযায়ী, মাস্কের সম্পদের বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অত্যন্ত ইতিবাচক। মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপনের স্বপ্ন দেখা এই উদ্যোক্তা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মহাকাশ প্রযুক্তির একচ্ছত্র অধিপতি হতে চলেছেন। স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তি এবং এক্সএআই-এর ডাটা প্রসেসিং ক্ষমতা মিলে যে নতুন ইকোসিস্টেম তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
আপনি কি মনে করেন ইলন মাস্ক কি ২০২৭ সালের মধ্যে ট্রিলিয়নিয়ার হতে পারবেন? কমেন্টে জানান!
