ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনের অনুমতি পাচ্ছেন সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা—এমনটাই জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখায় কোনো বাধা থাকবে না বলে জানান তিনি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ফলাফল বুথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, “সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা দায়িত্ব পালনের জন্য ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। এতে কোনো সমস্যা হবে না।”
এর আগে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় ভোটকেন্দ্রের চারশ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, শুধুমাত্র প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এবং নির্দিষ্ট দুইজন আনসার সদস্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রার্থী ও সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় সাংবাদিক সমাজে তীব্র উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
সাংবাদিকদের এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে সোমবার রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) নির্বাচন কমিশন সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সংগঠনের সভাপতি কাজী জেবেল বলেন, “ভোটের স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার অপরিহার্য। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দায়িত্ব পালনে বড় বাধা সৃষ্টি করে।”
সাংবাদিকদের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন তাদের অবস্থান থেকে সরে আসে। নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন বহনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে এবং এ বিষয়ে শিগগিরই সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
