ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে শুল্ক: ট্রাম্পকে থামাল যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট

শেয়ার করুন

বড় ধাক্কা খেলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। নিজের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, এমনটাই রায় দিয়েছেন Supreme Court of the United States। শুক্রবার ঘোষিত এ রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট যে আইনের আওতায় এসব শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সেই আইন তাকে এমন ক্ষমতা দেয় না।

ছয় বিচারপতির সমর্থনে দেওয়া এই রায়ে আদালত জানায়, ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন’ মূলত জাতীয় নিরাপত্তা ও জরুরি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রণীত। এই আইনের আওতায় শুল্ক আরোপের বৈধতা নেই। অথচ ট্রাম্প প্রশাসন এই আইন ব্যবহার করেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল। রায়ের বিপক্ষে মত দিয়েছেন বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ, ক্ল্যারেন্স থমাস ও স্যামুয়েল আলিটো। যদিও আদালতে রক্ষণশীল বিচারপতির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তবুও এ মামলায় কয়েকজন রক্ষণশীল বিচারপতি উদারপন্থী বিচারপতিদের সঙ্গে একমত হয়ে রায় দেন। ফলে নিম্ন আদালতের আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, যেখানে বলা হয়েছিল, এই আইনের অধীনে ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক অবৈধ।

পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণার দিনটিকে ট্রাম্প ‘আমেরিকার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, এই শুল্ক নীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করবে। দ্বিতীয় মেয়াদে গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা নজিরবিহীনভাবে ব্যবহার করে প্রায় সব প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেন। মেক্সিকো, কানাডা ও চীনের মতো দেশগুলোর ওপরও পৃথক শুল্ক চাপানো হয়। আদালতের এই রায় সেই কৌশলকে বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে ফেলেছে। তবে এখন পর্যন্ত আদায় হওয়া প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্কের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আদালত কোনো নির্দেশনা দেয়নি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে গড় শুল্কহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। তবে এই পরিবর্তন স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ, নতুন আইনি পথ খুঁজে আবারও শুল্ক আরোপের চেষ্টা করতে পারে মার্কিন প্রশাসন। শুল্কনীতি বিশ্লেষকদের ভাষ্য, আদালতের এই রায় প্রেসিডেন্টের খেয়ালখুশিমতো সর্বব্যাপী শুল্ক আরোপের প্রবণতাকে সীমিত করবে। তবুও প্রেসিডেন্টের হাতে অন্যান্য আইনি বিধান ব্যবহারের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে গত কয়েক বছরে বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। এই রায়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়ে একটি স্পষ্ট বার্তা দিল। বাণিজ্য নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে আইনের প্রাধান্য যে সর্বাগ্রে, তা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল আদালত। বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় কেবল বর্তমান প্রশাসনের জন্য নয়; ভবিষ্যতের যে কোনো প্রেসিডেন্টের জন্যও একটি সাংবিধানিক সীমারেখা নির্ধারণ করে দিল।

সূত্র: এএফপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *