ভোটের সমীকরণে বড় পরিবর্তন: ত্রয়োদশ নির্বাচনে ২০৮ আসন পেতে পারে বিএনপি জোট, জামায়াতের ঘরে ৪৬!
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ভোটারদের মনস্তত্ব আর রাজনৈতিক মেরুকরণ বুঝতে সম্প্রতি পরিচালিত হয়েছে এক বিশাল জনমত জরিপ। গবেষণা সংস্থা এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) পরিচালিত এই জরিপে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। যেখানে দেখা যাচ্ছে, সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে একক আধিপত্যের দিকে এগোচ্ছে বিএনপি জোট, আর শক্ত অবস্থান গড়ে তুলছে জামায়াতে ইসলামী। দেশের রাজনীতির এই সম্ভাব্য বাঁকবদল নিয়ে আমাদের আজকের বিশেষ বিশ্লেষণ।
রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের থ্রিডি সেমিনার হলে ৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এই জরিপটি দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জরিপ বলছে, ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২০৮টি আসনে জয়লাভ করতে পারে। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র জোট বা এককভাবে জামায়াতে ইসলামী ৪৬টি আসনে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় রাজনীতির কাঠামোতে এক নতুন মাত্রা যোগ করছে।
জরিপে জাতীয় পার্টি ৩টি, অন্যান্য দল ৪টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৭টি আসনে জয়ী হতে পারেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২২টি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইএএসডির তথ্যমতে, দেশের ৬৬.৩ শতাংশ ভোটারের প্রথম পছন্দ বিএনপি। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে দলটির জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী, যা প্রায় ৭১.১ শতাংশ। ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৬.৮ শতাংশ এবং সিলেটে ৭৫.৬ শতাংশ ভোটার বিএনপির পক্ষে মত দিয়েছেন। পরিবর্তনের এই ঢেউ কেবল সাধারণ মানুষের মধ্যেই নয়, বরং সাবেক আওয়ামী লীগ ভোটারদের মধ্যেও স্পষ্ট। জরিপে দেখা গেছে, আগে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটারদের ৮০ শতাংশই এবার বিএনপিকে বেছে নিতে আগ্রহী।
জরিপের ফলাফলে জামায়াতে ইসলামীর উত্থানও বেশ লক্ষ্যণীয়। বিশেষ করে খুলনা (১৮.৬%) ও বরিশাল (১৭.৮%) অঞ্চলে দলটি তাদের শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি প্রদর্শন করেছে। সারা দেশের ১১.৯ শতাংশ ভোটার সরাসরি জামায়াতকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গ্রামীণ ও শ্রমিক শ্রেণির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবার জামায়াতের দিকে ঝুঁকেছে।
পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনগণের পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬৮ শতাংশ মানুষ তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান পেয়েছেন ১৪ শতাংশ সমর্থন। এছাড়া এনসিপি-র নাহিদ ইসলাম ২ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন, যেখানে ১৬ শতাংশ ভোটার এ বিষয়ে নীরবতা পালন করেছেন।
ইএএসডি-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হায়দার তালুকদার জানান, দেশের ৩০০টি আসনেই পিএসইউ (Primary Sampling Unit) পদ্ধতিতে ৪১,৫০০ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। ১৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে কোবো টুলবক্স ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে ১৮-৩০ বছর বয়সী তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল ৩৭.২ শতাংশ, যা প্রমাণ করে দেশের নতুন প্রজন্ম একটি টেকসই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এখন সুশাসনের দিকে। মানুষ চায় এমন একটি সরকার যারা স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারবে।
আপনার এলাকায় কোন দলের অবস্থান শক্তিশালী? কমেন্টে জানান!
