জনআকাঙ্ক্ষার দর্পণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট: ভঙ্গুর অর্থনীতি বনাম কাঠামোগত রূপান্তরের কঠিন পরীক্ষা

শেয়ার করুন

সম্পাদকীয় নিবন্ধ:

আগামী ১১ জুন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক চরম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্রান্তিলগ্নে উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন জাতীয় বাজেট। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট, যা স্বাভাবিকভাবেই দেশজুড়ে সাধারণ নাগরিক, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ এবং নীতি-নির্ধারকদের মাঝে এক নজিরবিহীন কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার পাতা, টেলিভিশন টক শো-এর উত্তপ্ত বিতর্ক এবং নীতি-গবেষকদের সেমিনার কক্ষগুলো থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট এবারের বাজেট কেবল রাষ্ট্র পরিচালনায় কিছু সংখ্যার যোগ-বিয়োগ কিংবা প্রাক্কলনের খেরোখাতা নয়; এটি মূলত এক ভঙ্গুর অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার থেকে দেশকে টেনে তোলার এক মহাপরিকল্পনা এবং নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় ‘অ্যাসিড টেস্ট’।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এক ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দেশ যাচ্ছে এবং এবারের বাজেট তৈরি করা হচ্ছে “প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণকে” মাথায় রেখে। তবে অর্থনীতির রূঢ় বাস্তবতা এবং টক শোগুলোতে ভেসে আসা বিশেষজ্ঞদের মতামত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই ‘কল্যাণ’ নিশ্চিত করার পথটি মোটেও মসৃণ নয়। একদিকে ৯ লাখ কোটি টাকারও বেশি বিশাল আকারের সম্ভাব্য বাজেটের চাপ, অন্যদিকে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংকিং খাতের অরাজকতা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) ঋণের কঠোর শর্ত সব মিলিয়ে এই বাজেট সাজাতে সরকারকে এক ক্ষুরধার তরবারির ওপর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে।

১. সামষ্টিক অর্থনীতির মহাসংকট এবং মূল্যস্ফীতির লৌহকপাট

বর্তমান অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ক্ষতটির নাম ‘মূল্যস্ফীতি’। টক শো এবং অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলোতে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যসহ প্রথম সারির চিন্তাবিদদের একটি বক্তব্য বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে: “আসন্ন বাজেটের প্রধানতম এবং একমাত্র পথনির্দেশক নীতি হওয়া উচিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ।” বিগত কয়েক বছর ধরে সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি (যেমন প্রতি ইউনিটে ১.৫২ টাকা খুচরা বিদ্যুৎ ট্যারিফ বৃদ্ধি) সাধারণ জীবনযাত্রার ব্যয়কে এমন এক স্তরে নিয়ে গেছে, যেখানে মধ্যবিত্তরা তাদের সঞ্চয় হারাচ্ছে আর নিম্নবিত্তরা কাটছাঁট করছে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায়।
বিগত সরকারের আমলের “টাকা ছাপানো” (Excessive money printing) এবং ব্যাংকিং খাত থেকে দেদারসে ঋণ নেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে একটি ‘বিনিয়োগ-চালিত প্রবৃদ্ধি মডেল’ (Investment-led growth model)-এ যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী। এটি নীতিগতভাবে চমৎকার সিদ্ধান্ত, তবে এর বাস্তবায়ন সহজ নয়। টাকা ছাপানো বন্ধ করলে এবং ব্যাংক ঋণে লাগাম টানলে স্বল্পমেয়াদে বাজারে এক ধরনের তারল্য সংকট দেখা দিতে পারে, যা বেসরকারি বিনিয়োগকে সাময়িকভাবে শ্লথ করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই তিতো ওষুধ গিলতেই হবে। এবারের বাজেটে প্রবৃদ্ধির চাকা সচল রাখার চেয়ে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং মূল্যস্ফীতিকে এক অঙ্কের নিচে (Single digit) নামিয়ে আনাটাই হওয়া উচিত প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য।

২. আকারের জাঁকজমক বনাম বাস্তবতার কঙ্কাল: ৯ লাখ কোটি টাকার ফাঁদ

বিভিন্ন সংবাদসূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে যাচ্ছে প্রায় ৮ লাখ ৮৩ হাজার কোটি থেকে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে, যা চূড়ান্ত হলে তা হবে দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম বাজেট। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যখন দেশের রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থা নিজেই আইসিইউতে শয্যাশায়ী, তখন এত বড় বাজেটের অর্থায়ন আসবে কোথা থেকে?
অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের একটি পর্যবেক্ষণ এখানে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি একটি গোলটেবিল বৈঠকে বলেছেন, “আমরা অর্থমন্ত্রীকে সফল দেখতে চাই, জনপ্রিয় নয়।” এর অর্থ হলো, সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য অবাস্তব বড় বাজেট দিয়ে পরে বিশাল ঘাটতি মেটাতে বিদেশি বা অভ্যন্তরীণ ঋণের ফাঁদে পড়ার চেয়ে বাস্তবসম্মত ও সাশ্রয়ী বাজেট প্রণয়ন করা অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
বাজেটের আকার বড় করার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) এবং পরিচালন ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা। মোট ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেটের মধ্যে সরকার প্রায় ৭৪০ বিলিয়ন (৭৪ হাজার কোটি) টাকা ‘থোক বরাদ্দ’ (Block Allocation) হিসেবে রাখার পরিকল্পনা করছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের জরুরি ও নমনীয় প্রয়োজনে এই বরাদ্দ রাখার কথা বলা হলেও, ড. হোসেন জিল্লুর রহমান সঠিকভাবেই সতর্ক করেছেন যে, থোক বরাদ্দের আকার অতিরিক্ত বড় হলে তা রাজনৈতিক প্রভাব বা খেয়ালখুশিমতো অপচয়ের সুযোগ বাড়িয়ে দেয়, যা আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

৩. করের জাল বনাম করদাতার স্বস্তি: রোডম্যাপ ও বৈষম্য নিরসন

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (DCCI) বাজেটের প্রাক-আলোচনায় করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছিল। যদিও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) সূত্র জানাচ্ছে, সরকার ২০৩০-৩১ অর্থবছর নাগাদ করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘৫ বছরের রোডম্যাপ’ ভাবছে, তবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই সীমা বর্তমানের ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকাতেই অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এখানেই খবরের ভেতরের আসল বিতর্কটি লুকিয়ে আছে। আয়কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ করদাতাদের ভবিষ্যৎ কর পরিকল্পনা করতে সাহায্য করলেও, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে করমুক্ত সীমা না বাড়ানো মধ্যম আয়ের চাকরিজীবীদের ওপর এক ধরনের অন্যায় চাপ সৃষ্টি করবে। মানুষের প্রকৃত আয় না বাড়লেও মূল্যবৃদ্ধির কারণে তারা উচ্চতর করের ধাপে (Tax bracket) ঢুকে পড়বেন, যা তাদের ব্যয়যোগ্য আয় (Disposable income) আরও কমিয়ে দেবে।
অন্যদিকে, এনবিআর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান কর ফাঁকিবাজদের কঠোর আওতার মধ্যে আনার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, তা প্রশংসনীয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮ লাখের কম, যা এই বিশাল অর্থনীতির তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। এনবিআর-এর উচিত হবে করের হার না বাড়িয়ে করের জাল (Tax net) সম্প্রসারণ করা। তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির কর্পোরেট করের হার বর্তমানের ২৭.৫% থেকে কমিয়ে ২৫% করার যে দাবি ব্যবসায়ীরা করছেন, তা বিবেচনা করা যেতে পারে, তবে শর্ত একটাই সব লেনদেন এবং কর রিটার্ন জমা পুরোপুরি অনলাইন ও স্বয়ংক্রিয় করতে হবে। সেন্ট্রাল এপিআই ইন্টিগ্রেশন (Central API Integration)-এর মাধ্যমে সরকারি সব সংস্থার তথ্য সমন্বয় করা গেলে কর ফাঁকি নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।

৪. মানবসম্পদ উন্নয়ন: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ কি স্রেফ ইট-পাথরের দেয়াল?

সামাজিক খাতের বিনিয়োগ নিয়ে ইউনিসেফ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক গোলটেবিল আলোচনাগুলো দেশের বাজেট ভাবনার এক বড় দুর্বলতা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (ইউনেস্কোর গাইডলাইন) অনুযায়ী, একটি দেশের শিক্ষা খাতে মোট জিডিপির অন্তত ৪ থেকে ৬ শতাংশ অথবা মোট বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ থাকা উচিত। অথচ বাংলাদেশে এই বরাদ্দ বছরের পর বছর ধরে জিডিপির ২ শতাংশের নিচে এবং মোট বাজেটের ১০ থেকে ১১ শতাংশের গোলকধাঁধায় আটকে আছে।
এবারের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির (প্রায় ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধির আভাস) খবরটি ইতিবাচক শোনালেও, এর গুণগত ব্যবহার নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে। বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়তে উঠে এসেছে যে, আমাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বাজেটের সিংহভাগ চলে যায় অবকাঠামো নির্মাণ নতুন বহুতল ভবন, সীমানা প্রাচীর তৈরি কিংবা আসবাবপত্র কেনাকাটায়। “ভবন হচ্ছে, কিন্তু সেই ভবনের ল্যাবরেটরিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই, লাইব্রেরিতে নতুন বই নেই। যে শিক্ষকেরা পড়াবেন বা চিকিৎসকেরা সেবা দেবেন, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও আধুনিক প্রশিক্ষণের জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত তহবিল থাকে না। মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশ বাদ দিয়ে শুধু ইট-পাথরের দালান তোলার এই প্রবণতা খাত দুটিকে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দিচ্ছে।”

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ডেটা সায়েন্সের এই যুগে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করতে হলে শুধু দালানকোঠা নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চগতির ইন্টারনেট, আধুনিক ল্যাব এবং শিক্ষকদের নিবিড় প্রশিক্ষণের পেছনে খরচ বাড়াতে হবে। একইভাবে, স্বাস্থ্য খাতে মাঠপর্যায়ে ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের যে পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে, তা যেন রাজনৈতিক নিয়োগের আখড়ায় পরিণত না হয়ে প্রকৃত অর্থেই গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

৫. ঋণ এবং আইএমএফ (IMF) জুজু: স্বনির্ভরতার খোঁজে

প্রথম আলোর একটি গোলটেবিল বৈঠকে অর্থমন্ত্রী নিজেই প্রশ্ন তুলেছেন, “আমরা কি ঋণের জন্য সবসময় আইএমএফ-এর পেছনেই ছুটব?” এই একটি বাক্যেই স্পষ্ট যে, বিগত বছরগুলোর অপরিকল্পিত ঋণ গ্রহণ দেশের অর্থনীতিকে কতটা ঋণ-জালে (Debt trap) জর্জরিত করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের একটি বিরাট এবং আশঙ্কাজনক অংশ ব্যয় হয়ে যায় কেবল ঋণের সুদ পরিশোধে (Loan interest payments)।

বিদেশি ঋণের শর্ত মেনে চলতে গিয়ে সরকার অনেক সময় জনকল্যাণমূলক খাত থেকে ভর্তুকি তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছে, যা প্রকারান্তরে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এই বৃত্ত থেকে বের হতে হলে বাজেটে অনুৎপাদনশীল খাতের পরিচালন ব্যয় এবং সরকারি আমলাতন্ত্রের বিলাসিতা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। মেগা প্রজেক্টের নামে ধীরগতির এবং কম জরুরি প্রকল্পগুলো সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে দ্রুত উৎপাদনশীল খাত ও কৃষিতে প্রণোদনা বাড়াতে হবে, যাতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো যায়।

কেমন হওয়া উচিত আমাদের মুক্তির সনদ?

২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেট কেবল একটি অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক দলিল নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার দ্বিতীয় অধ্যায়ের সূচনা করার হাতিয়ার হতে পারে। টক শো-র কোলাহল আর পত্রিকার পাতার চুলচেরা বিশ্লেষণ থেকে যে নির্যাসটি পাওয়া যায়, তা হলো সরকারকে ‘উচ্চ প্রবৃদ্ধির অবাস্তব মোহ’ ত্যাগ করে ‘জনগণের স্বস্তি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা’কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

একটি সফল ও গণমুখী বাজেট নিশ্চিত করতে আসন্ন অধিবেশনে নিচের পাঁচটি বিষয়ে আপসহীন সিদ্ধান্ত নিতে হবে:

 মূল্যস্ফীতি দমন ট্র্যাকিং: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে এবং ওএমএস ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা দ্বিগুণ করতে হবে।

 কর কাঠামো সংস্কার: সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের (VAT) বোঝা না চাপিয়ে বিত্তশালীদের প্রত্যক্ষ কর এবং সম্পদ করের (Surcharge) আওতা বাড়াতে হবে।

 অপচয় রোধ: থোক বরাদ্দের নামে অর্থ অপচয় বন্ধ করে প্রতিটি টাকার হিসাব নিশ্চিত করতে হবে।

 আইটি ও অটোমেশন: এনবিআর এবং শুল্ক বিভাগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও ডিজিটাল করতে হবে, যেন কর দিতে গিয়ে কোনো ব্যবসায়ীকে হয়রানির শিকার হতে না হয়।

 মানবপুঁজিতে বিনিয়োগ: ইট-পাথরের অবকাঠামো প্রকল্প কমিয়ে শিক্ষক, ডাক্তার, নার্স ও গবেষকদের মানোন্নয়নে বরাদ্দ সরাসরি বাড়াতে হবে।

অর্থনীতি ভঙ্গুর, কিন্তু তা পুনর্গঠন অসম্ভব নয়। অর্থমন্ত্রী ও নতুন সরকারের সামনে এখন সুযোগ এসেছে বিগত দশকের ক্রনি ক্যাপিটালিজম বা লুণ্ঠনমূলক অর্থনীতির ধারা বদলে একটি সমতাভিত্তিক, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো দাঁড় করানোর। ১১ জুনের বাজেট বক্তৃতা কেবল কিছু সংখ্যার খতিয়ান না হয়ে, দেশের আমজনতার জন্য এক চিলতে স্বস্তি আর বিশ্বাসের দলিল হয়ে উঠুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *